কর বাড়লেও জিনিসপত্রের দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:৪৯

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বাড়লেও জিনিসপত্রের দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘অত্যাবশ্যকীয় সব পণ্যের শুল্ক কমিয়ে জিরো (শূন্য) করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা সেই ছাড়টা দেখবেন।’

বিভিন্ন পণ্যে ও সেবায় শুল্ক-কর বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে সচিবালয়ে আজ বৃহস্পতিবার অর্থ উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন। এর আগে গতকাল বুধবার ৪৩টি পণ্য ও সেবায় মূল্য সংযোজন কর বা মূসক বা ভ্যাট বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ; পাশাপাশি কিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে সম্পূরক ও আবগারি শুল্ক বৃদ্ধিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ উদ্যোগের ফলে জিনিসপত্রের দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে কি না, সাংবাদিকেরা তা জানতে চান অর্থ উপদেষ্টার কাছে। জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আজ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মূল্যস্ফীতির মূল ওয়েটের ইন্ডিকেটরগুলো হলো চাল, ডাল এগুলো। আমরা যেসব জিনিসের ওপর কর বাড়াচ্ছি, এগুলো মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ।’

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তিন তারকার ওপর যে রেস্টুরেন্টগুলো, সেগুলোর ক্ষেত্রে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। ভাতের রেস্টুরেন্ট বা অন্য রেস্টুরেন্ট থেকে তো যাবে না। বিমানভাড়ার ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিমানের ভাড়ার ক্ষেত্রে আগে ৫০০ টাকা ছিল, সেটি ২০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিমানে এখন লোকজন মোটামুটি চড়ে। তারা ২০০ টাকা বেশি দিতে পারবে না বলে মনে হয় না। এগুলো মার্জিনাল।’

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশেই, এমনকি নেপাল, ভুটানেও, বাংলাদেশের মতো এত কম কর (ট্যাক্স) নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় বলেছি, সেখানে আমরা প্রায় জিরো করে নিয়ে আসব।’

অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ মাসের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা করার কারণটা হলো, যে ছাড় দিয়েছি, সেটা হিসাব করে কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। আর আমাদের রাজস্বঘাটতি এত বেশি, আমি তো আর বড় করে ঘাটতি অর্থায়ন (ডেফিসিট ফাইন্যান্সিং) করে এগোতে পারব না।’

আইএমএফের পরামর্শে এটি করা হচ্ছে কি না, তা জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘না, সবদিক চিন্তাভাবনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ সরকারের এ সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের কষ্ট হবে কি না, তা জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘মনে হয় না কষ্ট হবে।’

ইত্তেফাক/এনএ