সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের মেয়াদ আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আবদুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত বছরের ৩ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নম্বর ৩২৯-আইন/২০২৪ দ্বারা গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন-এর মেয়াদ আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হলো।
এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয় ওই প্রজ্ঞাপনে।
গত ৩ অক্টোবর ড. বদিউল আলম মজুমদারকে প্রধান করে ৮ সদস্যের 'নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন' গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের প্রধান সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম সুজন।
এছাড়া সদস্য করা হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষজ্ঞ শিক্ষাবিদ ড. তোফায়েল আহমেদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও ওপিনিয়ন মেকার ড. জাহেদ-উর রহমান, শাসন প্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন, ইলেকট্রনিক ভোটিং ও ব্লকচেইন বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ সাদেক ফেরদৌস ও একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি।
এতে বলা হয়, কমিশন ৩ অক্টোবর হতে কার্যক্রম শুরু করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল মতামত বিবেচনা করে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নিকট হস্তান্তর করবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। সকল রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সংস্কার প্রস্তাব পেশ করার কথা ছিল নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের। তবে, নির্ধারিত সময়ে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিতে না পারায় সে সময় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল।
