গাজীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা

ওষুধ ব্যবসায়ীকে ইটের আঘাতে হত্যা, লাঞ্ছিত স্ত্রী

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৬:০০

গাজীপুরের শ্রীপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় হাসিবুল ইসলাম (৪০) নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১ জানুয়ারি) দিনগত রাত ৩টার দিকে পৌরসভার কেওয়া পশ্চিম খণ্ড (মসজিদ মোড়) এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে আটক করে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

নিহত হাসিবুল ইসলাম বরিশাল জেলার বানারিপাড়া উপজেলার ইলোহার গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সেখানে শ্বশুরের বাড়ির পাশে একটি ওষুধের দোকান দিয়ে ব্যবসা করছিলেন।

স্বজনরা জানান, নিহত হাসিবুল ইসলাম তার স্ত্রী, সন্তান ও আরেক স্বজনসহ একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে তার স্ত্রী বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হাসিবুল ঘরের চাবি আনতে বাড়ির ২০০ গজ দূরে অবস্থিত তার দোকানে যান। এ সময় হঠাত্ ৮ থেকে ১০ জনের একটি কিশোর গ্যাং সেখানে এসে জোর করে হাসিবুলের স্ত্রীর শরীর থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেয়। বাধা দিলে সেখানে উপস্থিত অপর স্বজনকে ইট দিয়ে আঘাত করে তারা। এ সময় ফার্মেসি থেকে ফিরে এসে হাসিবুল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বাধা দিলে তারা বাসায় ঢুকে তাকেও ইট দিয়ে শরীরে আঘাত করে। মারাত্মক জখম হয়ে জ্ঞান হারিয়ে হাসিবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে একই গাড়িতে করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রাইভেটকার চালক শিমুল মিয়া বলেন, ‘গাড়ি দাঁড় করানোর পরপরই ওরা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। গাড়ির সামনে এসে নারীদের দেখে উল্লাস শুরু করে। এরপর নারীদের গায়ে হাত দেয়। গাড়ি থেকে নামার পর আমাকে মারধর করে। ওরা সংখ্যায় অনেক, তাই তাদের সঙ্গে পারা সহজ ছিল না। তা ছাড়া সবাই মাদকাসক্ত ছিল। গেট ভেঙে ঘরে ঢুকে শেষ পর্যন্ত হাসিবুল ইসলামকে হত্যা করে। ওরা আমার দিকেও তেড়ে এসেছিল। আমিও আহত হয়েছি।’

নিহত ওষুধ ব্যবসায়ীর স্ত্রী মোছা. মাহমুদা আক্তার বলেন, আমার স্বামী বারবার নিজের পরিচয় দিয়ে রুবেল নামে একজনকে ভাগনে বলে অনেকবার চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। ওদের শরীরে হাত বুলিয়ে দেন, তবু ওরা থামেনি। তাদের নির্যাতনের কারণে আমার স্বামী প্রস্রাব করে দেয়। মাদকাসক্তরা কতটা হিংস্র, আমার বাসার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা আমার স্বামীকে খুন করেছে। তারা আমার বোনসহ আমাকেও লাঞ্ছিত করেছে। আমি ওদের ফাঁসি চাই’।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, ‘খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মো. অন্তর (২০) ও মো. রোমান (২১) নামে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের দুজনের বাড়ি স্থানীয় কেওয়া পশ্চিম খণ্ড এলাকায়ই। পলাতক রুবেলসহ অন্যদের আটক করতে অভিযান চলছে।’

ইত্তেফাক/এনএন