দক্ষিণ আফ্রিকার পুনরুত্থান: চ্যালেঞ্জ ও জয়ের গল্প

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:৫৯

সেঞ্চুরিয়নে পাকিস্তানের বিপক্ষে নাটকীয় ২ উইকেটের জয়ের পর মাঠ প্রদক্ষিণ করেন বাভুমা, মার্করাম ও রাবাদারা। এই জয় শুধু রোমাঞ্চকরই নয়, এটি তাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে ফাইনালের পথে দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। গত আগস্ট থেকে টানা ৭টি টেস্ট খেলেছে প্রোটিয়ারা, যেখানে প্রত্যেকটিতেই জয় ছিল একমাত্র বিকল্প।  

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) কেপটাউনে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ফাইনালের চাপমুক্ত অবস্থায়। তবে এ পর্যন্ত আসার পথটি ছিল কণ্টকাকীর্ণ।  

গত ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেবার দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। প্রোটিয়া তারকারা এসএ২০ লিগে অংশ নেওয়ায় পূর্ণ শক্তির দল ছিল না। কিন্তু এরপর লাল বলের কোচ সুক্রি কনরাডের সাহসী নেতৃত্বে গত ১১ টেস্টের ৭টিতে জয়ী হয় দলটি।  

কনরাডের নেতৃত্বে বেশ কিছু চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত দেখা যায়। ডিন এলগারকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে টেম্বা বাভুমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি করবিন বোশের অভিষেক এবং একঝাঁক নবীন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়া হয়। যদিও প্রোটিয়াদের কোনো ব্যাটসম্যান বা বোলার এই সময়ে শীর্ষ রান সংগ্রাহক বা উইকেট শিকারির তালিকায় ছিলেন না, তবুও দলগত পারফরম্যান্সে তারা বাধা অতিক্রম করেছে।  

ডিন এলগারকে অবসর নিতে রাজি করানোর মধ্য দিয়ে কনরাড প্রোটিয়াদের ভবিষ্যতের জন্য জায়গা তৈরি করেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নবীনদের নিয়ে সিরিজ হারলেও দলে উদীয়মান তারকা উঠে আসে। ডেভিড বেডিংহামের সেঞ্চুরি, ড্যান প্যাটারসন ও ড্যান পেতির বোলিং দক্ষতা এবং উইন মোল্ডারের প্রতিশ্রুতি দলকে সামনে এগিয়ে নেয়।  

কনরাড কাইল ভেরেনেকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন কৌশল প্রয়োগ করেন। শুরুতে তাকে বাদ দিয়ে হেনরিক ক্লাসেনকে সুযোগ দেওয়া হলেও, দ্রুত বুঝতে পারেন ভেরেনে দলের জন্য অপরিহার্য। ফিরে আসার পর বাংলাদেশ ও উইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করেন ভেরেনে।  

অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে তিনি দলকে অনুপ্রাণিত করেন। কুইয়ের চোট নিয়েও খেলতে থাকা বাভুমা দলের জন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।  

দক্ষিণ আফ্রিকার এই পুনরুত্থান তাদের লড়াই, নেতৃত্ব ও কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এই দল কী করে, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।  

ইত্তেফাক/টিএইচ