স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপ নিয়ে ইংল্যান্ডের আক্ষেপ ছিল। গেল ১১টা আসরে কোনোবারই শিরোপা ছোঁয়া হয়নি খেলাটির আবিষ্কারক দেশটির। তবে, সেই আক্ষেপ ঘুঁচলো দ্বাদশ আসরে এসে। প্রথমবারের মত ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বিশ্বজয় করলো ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস জয়ে ট্রফি হাতে নেওয়ার পর অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান মনে করছেন, বিশ্বজয়ের এই অনন্য যাত্রাটাই পাল্টে দিতে পারে ইংলিশদের ক্রিকেট ভবিষ্যত্।
লর্ডসের ফাইনালকে কেন্দ্র করে লন্ডনে তো বটেই গোটা ইংল্যান্ডেই ছিল সাজসাজ রব। একই দিনে উইম্বলডন ফাইনালে ছিল ফেদেরার-জকোভিচ লড়াই, চলছিল ব্রিটিশ গ্রাঁ পির খেলাও। এত কিছুর পরও রবিবারে লর্ডসে নেমেছিল হাজার হাজার মানুষের ঢল। এর মধ্যেই ইংল্যান্ডে ক্রিকেটের জয় দেখছেন মরগ্যান। তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই মনে করি এই সাফল্য দর্শকদের অংশগ্রহণ আরো বাড়িয়ে দেবে। আজ খেলাধুলার ইতিহাসেই বড়ো একটা দিন ছিল। উইম্বলডনের ফাইনাল চলছিল। চলছিল ব্রিটিশ গ্রাঁ পির ফাইনাল। আর দিনটা রবিবার। মানুষ এই দিনটায় ছুটিই কাটাতে চায়। অবসর সময় কাটাতে চায়। কিন্তু, সেসব ফেলে আজ সবাই ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেছে। আমি মনে করি, এটা ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ভবিষ্যত্ পাল্টে দেবে।’
ইংল্যান্ডের দর্শকরা এদিন মাঠ থেকে খালি হাতে ফেরেননি। ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন। ইতিহাস কেবল ইংল্যান্ডের বিশ্বজয়ের কারণে না, ম্যাচটা ছিল খোদ ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্যে ইংল্যান্ড থামে ২৪১ রানে। মানে ম্যাচ টাই। শিরোপা নির্ধারণের জন্য তখন উপায় একটাই — সুপার ওভার।
তাতে, ট্রেন্ট বোল্টের ওভারে ইংল্যান্ডের জশ বাটলার ও বেন স্টোকস মিলে বিনা উইকেটে তোলেন ১৫ রান। জবাব দিতে নেমে তরুণ পেসার জোফরা আর্চারকে রীতিমত তুলোধুনোই করছিলেন জিমি নিশাম। কিন্তু, তিনি আউট হওয়ার পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে থাকে। শেষ বলে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার পড়ে দুই রান। গোটা আসরের ব্যর্থ ওপেনার মার্টিন গাপটিল করতে পারেন মাত্র এক রান। সুপার ওভারেও টাই। কিন্তু, বাউন্ডারিতে এগিয়ে থেকে শিরোপা চলে যায় ইয়ন মরগ্যানদের হাতে।
সাবেক আইরিশ ক্রিকেটার মরগ্যান মনে করেন, ক্রিকেটের ইতিহাসেই এই ফাইনাল একটা অনন্য নিদর্শন হয়ে রইবে। ৩২ বছর বয়সী মরগ্যান বলেন, ‘এটা ক্রিকেটের ইতিহাসেরই অন্যতম অতিমানবীয় একটা লড়াই। দু’টো দলকে আসলে আলাদা করার কিছু ছিল না। আমি কেন উইলিয়ামসনকেও (নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক) বলেছি, সত্যিই আজ (রবিবার) ওরা ছিল অসাধারণ।’ ২০১৫ বিশ্বকাপের দুই মাস আগে অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন ডাবলিনে জন্ম নেওয়া মরগ্যান। ২০১৫ সালে অধিনায়ক হিসেবে বড় একটা দুঃসময় পার করেন। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে ইংলিশরা। সেখান থেকে এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত বড় একটা উত্থান দেখেছে ব্রিটিশ ক্রিকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল যোগ্য ফেবারিট হিসেবেই শিরোপা জিতেছে।
মরগ্যান মনে করছেন, নিজেদের ইতিবাচক মানসিকতায় সাফল্য পেয়েছে ইংল্যান্ড। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পুরোটা সময় জুড়ে আমরা যে ঝুঁকিটা নিয়েছি — তা হলো ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখা।’ ইংল্যান্ডের খেলাধুলার ইতিহাসেই এটা সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি। এর আগে ১৯৬৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ইংল্যান্ড। এরপর ২০০৩ সালে রাগবি দলও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ইয়ন মরগ্যানের নাম তাই এখন থেকে ফুটবলের ববি মুর কিংবা রাগবির মার্টিন জনসনদের সাথে উচ্চারিত হবে!
