বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা
সিসা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি উপাদান। সেই সিসার ক্ষতিকর প্রভাবে পাবনার বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গড়ে ওঠা রিকশা ভ্যানে ব্যবহূত পুরোনো ব্যাটারি ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিশু-কিশোররা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নে রাস্তার পাশে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যাটারি ভাঙার কারখানা অবস্থিত। সেসব কারখানায় বড়োদের সঙ্গে সঙ্গে কাজ করছে শিশু-কিশোর। হাতে গ্লাভস ব্যবহার করলেও নাকে-মুখে তারা কিছুই ব্যবহার করছে না। ফলে নিজেদের অজান্তেই তারা মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে পড়ছে। ব্যাটারির কার্যক্ষমতা শেষ হলে কেজি দরে সে সব ব্যাটারি হাত ঘুরে চলে আসে এসব কারখানায়। তারপর সিসা তৈরির জন্য সে সব ব্যাটারি ভেঙে অ্যাসিডমিশ্রিত ছাই ও গাদ আলাদা করা হয়। সে সব ছাই ও গাদ তীব্র তাপ সৃষ্টিকারী চুল্লিতে পোড়ানো হয়। পোড়ানোর সময় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ঝাঁঝালো ধোঁয়া। যার প্রভাবে এলাকায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। আর দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ব্যাটারি কারখানায় ব্যাটারি ভাঙার কাজ করার ফলে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। পড়ালেখা না করে এসব শিশু-কিশোর পরিবারের একটু আর্থিক সহযোগিতা করতেই এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। লাভজনক হওয়ায় ব্যাটারি ভাঙার কারখানার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারাদিনে ব্যাটারি ভাঙার ওপর নির্ভর করে এসব শিশু-কিশোরকে মজুরি দেওয়া হয়।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিলন মাহমুদ জানান, ব্যাটারি ভাঙার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। ফলে তাদের ফুসফুসের সংক্রমণসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
