৩৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হিলি স্থলবন্দরে

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ২১:১৮

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

গত অর্থবছরে বড়ো ধরনের রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশন। সদ্য সমাপ্ত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর আদায় হয় ২৩৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ঘাটতির পরিমাণ ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

বন্দরের আমদানিকারকরা মনে করেন, শুল্ক কর্তৃপক্ষের দ্বৈতনীতি, সমন্বয়হীনতা ছাড়াও বন্দরের ভাঙা রাস্তা, যানজট এবং পণ্য পরিবহনে রাস্তায়-রাস্তায় হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীরা দিন দিন এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

বন্দরের স্থল শুল্ক স্টেশনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে মাসভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের প্রথম জুলাইয়ে ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আগস্টে ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৭১ লাখ ৬২ হাজার, অক্টোবরে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, নভেম্বরে ২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, ডিসেম্বরে ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, জানুয়ারিতে ২৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৩১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা, মার্চে ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, এপ্রিলে ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, মে ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৩ কোটি ২২ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং জুনে ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান ওরফে মোস্তাক মাস্টার জানান, দেশে বিভিন্ন পণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীরা হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করেন। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুল্ক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একারণে ব্যবসায়ীরা অনেক সময় পণ্য আমদানি করে বিপাকে পড়েন। বন্দরের রাস্তাগুলো ভালো না। পণ্য নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পথে রাস্তায়-রাস্তায় হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীরা বন্দর ব্যবহারে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা (সুপারিনটেনডেন্ট) নুর আমীন রাজস্ব ঘাটতির কথা স্বীকার করে বলেন, গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতের ফারাক্কা ব্রিজের সংস্কার কাজ করা হয়েছে।

এ কারণে ঐ সময়ে পাথর, চালসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক দেশে কম এসেছে। আবার বেশি শুল্কযুক্ত পণ্যও তেমন আমদানি হয়নি। বেশিরভাগই পণ্যই শুল্কমুক্ত ও কম শুল্কযুক্ত আমদানি হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।