চট্টগ্রামের মিরসরাই

বালু সরবরাহ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৪

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১৮:০১

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিজ্ঞানাগার নিমার্ণের বালু সরবরাহ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত চারজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন- জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মাসুকুল আলম সোহান, জামায়াত নেতা জামাল উদ্দিন ওরফে শিবির জামাল, যু্বদল কর্মী মো. মামুন ও জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হওয়ায় জামাল উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিজ্ঞানাগার নির্মাণের বালু সরবরাহ নিয়ে সোমবার সকালে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ বিষয়ে বিজ্ঞানাগার নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আলম বলেন, নির্মাণ কাজের বালু সরবরাহের কাজ কোনো গ্রুপের লোকদের দেওয়া হয়নি। স্যাম্পলের জন্য বালু নিয়ে এলে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

তবে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মাসুকুল আলম সোহান জানান, বালু সরবরাহের কাজ তাদের জোরারগঞ্জ এন্টারপ্রাইজকে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ কাজে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে মোটরসাইকেল নিয়ে জামায়াতের হেলমেট বাহিনী অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়।

জোরারগঞ্জ থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মাঈন উদ্দিন জানান, এটি ব্যবসায়িক ঘটনা। হামলার বিষয়ে নিন্দা জানাই। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বসে সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জোরারগঞ্জ থানা জামায়াতের আমির নুরুল হুদা হামিদী বলেন, নির্মাণকাজের বালু সরবরাহের দায়িত্ব পায় জেএস এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু বালু পাঠানোর পর বিএনপির লোকজন আটকে দেয় এবং নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে জামাল, আলী ও আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিএনপির সঙ্গে বসবো।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে রাজনৈতিক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের টিম এসে ঘটনার নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি