দীর্ঘ প্রচেষ্টায়ও চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ডেন্টাল ইউনিট কলেজে উন্নীতকরণ হচ্ছে না। গত ৩৫ বছর যাবৎ ডেন্টাল ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। কলেজে উন্নীতকরণ না হওয়ায় ডেন্টালের শিক্ষার্থী ও অত্র অঞ্চলের রোগীরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। নেই ডেন্টালের উন্নত চিকিৎসার কোনো উপকরণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের চিকিত্সকসহ সকলের দীর্ঘদিনের দাবি একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা। ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য চমেক কর্তৃপক্ষ সকল কাগজপত্র পাঠিয়েছে। কিন্তু জায়গা সিলেকশান নিয়ে জটিলায় বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। তার আগে ডেন্টাল কলেজের জন্য চমেক হাসপাতালের গোয়াছি বাগান এলাকায় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ডেন্টাল কলেজ না হওয়ায় সেই জায়গায় এখন বার্ন ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালে ১৯৮৯ সালে ডেন্টাল ইউনিট চালু হয়েছে। শিক্ষক ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলের কোনো পদ সৃজন হয়নি। হাসপাতাল থেকে কয়েকজন কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ডেন্টাল ইউনিটে সরকারি ভাবে আলাদা কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। ডেন্টাল ইউনিটে পাঁচটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, এখানে একটি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা আমাদেরও দাবি। আমরা অনেক কাগজপত্র পাঠিয়েছি। জায়গা সিলেকশন নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ঝুলে রয়েছে। বর্তমানে ডেন্টাল ইউনিট চমেক হাসপাতালের জায়গায় রয়েছে। কলেজ করতে হলে আলাদা জায়গার প্রয়োজন। হাটহাজারী এলাকায় একটি জায়গার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু জায়গা হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট করো পছন্দ হচ্ছে না।’
জানতে চাইলে ডেন্টাল ইউনিটের অধ্যক্ষ ডা. মনোজ বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, এটিকে ডেন্টাল কলেজে উন্নীতকরণ দীর্ঘদিনের দাবি। একটি ৬তলা বিল্ডিং ছাড়া আর কিছুই হয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম এতই অপ্রতুল ও জরাজীর্ণ বলার অবস্থা রাখে না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা উপকরণ সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা কলেজে উন্নীতকরণে অনেকবার আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমাদের অন্তত: আরও ৪০টি ডেন্টাল চেয়ারের প্রয়োজন। জায়গার সংকট প্রকট।’
ডেন্টাল ইউনিটে বহির্বিভাগ নেই। চমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের দৈনিক ৩০ জন রোগীকে ডেন্টাল ইউনিটে পাঠানো হয়। কারণ ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য রোগীর প্রয়োজন। ডেন্টালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছে। কলেজের ছাত্র রয়েছে। তাদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে রোগীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডেন্টাল ইউনিটে নানা সমস্যা ও রোগীর চাপ থাকায় ডেন্টালের সার্জারির রোগীদের রুট ক্যানেল করতে দুই-তিন মাস পর সিরিয়াল পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা জানান,বর্তমানে মুখের ক্যানসার রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাঁতের চিকিৎসা ব্যয় বহুল হয়ে পড়েছে। কিন্তু সরকারি এই হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় দন্ত রোগীরা উন্নত চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। বাইরে একটি দাঁত রুট ক্যানেল করতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় আদায় করা হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালে ডেন্টাল বহির্বিভাগ
ডেন্টাল ইউনিটের পাশেই চমেক হাসপাতালে দন্ত চিকিৎসার বহির্বিভাগ রয়েছে। এখানে দাঁতে চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্র ছাড়া আর কোন চিকিৎসা মিলছে না। তিনটি ডেন্টাল চেয়ার ছিল। এসব চেয়ার গত তিন বছর যাবৎ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে কোন ডেন্টাল চেয়ার বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। বহির্বিভাগের আওতায় ২০ জন চিকিৎসক রয়েছে। তার মধ্যে ছয় জন চিকিৎসক বহির্বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি চিকিৎসক ডেন্টাল ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।
বহির্বিভাগের ইনচার্জ ডা. তানজিলা আনোয়ার বলেন, অচল ডেন্টাল চেয়ার মেরামতের জন্য অনেক লেখালেখি হয়েছে। টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্সরে মেশিনটি পড়ে রয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জটিল রোগীদের ডেন্টাল ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে আমাদের চিকিৎসক রয়েছে।’ বহির্বিভাগের দৈনিক ৩০ জন রোগীকে ডেন্টাল ইউনিটে পাঠাতে পারে। কারণ ডেন্টাল ইউনিটের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য ৩০ জন রোগী পাঠানোর কথা রয়েছে।’

