আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের কারণেই হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এখতিয়ার। এখানে আওয়ামী লীগ কিংবা সরকারের কিছুই করার নেই। এক্ষেত্রে সরকারের ওপর দোষারোপ করা অন্যায় হবে। গতকাল সোমবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, বিএনপি দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা অংশ না নিলেও সে অবস্থা তৈরি হবে না।
আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলে সরকারের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ বিএনপির পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, সরকারের সম্পৃক্ততা থাকলে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো কিভাবে? এতে কি আমাদের মনোকষ্ট হচ্ছে না? তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন আছে বাতিল করার। সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত না। খালেদা জিয়ার বিষয়ে তো উচ্চ আদালত আগেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে। দুই বছরের বেশি যারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত, তারা নির্বাচন করতে পারবে না।
মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অলি আহমেদ সাহেব রবিবার আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি কিছু কিছু সমস্যা তুলে ধরেছিলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে। আমি তখনই তাকে বলেছি যে দেখুন, এখন তো প্রশাসন, পুলিশ- সব নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তারপরও আমি দলের সেক্রেটারি হিসেবে চেষ্টা করব যাতে আপনার এলাকায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয়। আমি সেখানে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, আমরা কোনো অবস্থাতেই একতরফা কোনো কিছু সৃষ্টি করে নির্বাচনে লড়াই করতে চাই না।
বিএনপির নির্বাচন বর্জনের হুমকির মধ্যে বাস্তবতা কিছু দেখতে পাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার বিশ্বাস তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে হুমকি দিচ্ছে, দেশের জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
