ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার আগে হয়। আলোচনা-সমালোচনার শুরু ঢাকার কয়েকটি বড় কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘অধিভুক্ত’ করার পর থেকে। অধিভুক্ত করাটা আসলে কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যাটা হলো ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘অধিভুক্ত’ কলেজের মধ্যে গুলিয়ে ফেলা। অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নয়—শিক্ষক আলাদা, মূল্যায়ন আলাদা, পড়াশোনার সিস্টেম আলাদা। পড়াশোনার মান নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্র্রয়োজন। দুটোর মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের কোনো জায়গাই নাই। একটা হলো ‘বিশ্ববিদ্যালয়’, আরেকটা হলো ‘কলেজ’। সমস্যাটা হচ্ছে অতি উত্সাহী কিছু অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী নিজের কলেজের নাম উহ্য রেখে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়! যা প্রকৃতপক্ষে এক ধরনের অপরাধ বটে। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিভুক্ত’ কলেজের শিক্ষার্থী—এই বিষয় দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অধিভুক্ত কলেজগুলোর রয়েছে গৌরবের ইতিহাস। কোনো কোনোটি হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও আগে প্রতিষ্ঠিত। দেশের গুণীজনদের একটা বড় অংশ কিন্তু এসব কলেজের ছাত্রছাত্রী। সুতরাং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা যে আদতে নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে ছোট করছেন তা বলাই বাহুল্য। অনেক পরিশ্রম এবং ভাগ্যের সহায়তায় যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নের সুযোগ পায়, তার থেকেও অনেক কম পরিশ্রম করেও যদি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র করা যায়, তাহলে সবাই সেটাই করত। পরিশেষে, শিক্ষাবিদ ও ঢাবির প্রশাসনকে বলতে চাই—ঢাবির মর্যাদা ও সাত কলেজের যে আলাদা আলাদা মর্যাদা আছে তা সমুন্ননত রাখতে উভয়কেই আবার তাদের আগের স্থানে যেতে দেওয়া হোক, তা না হলে উভয়েরই শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মো. আরমান হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
০
