বরিশালের মুলাদীতে কাজ শুরুর পর ৫ বছরেও শেষ হয়নি পশ্চিম ষোলঘর খালের সেতু নির্মাণ কাজ। এই পরিস্থিতিতে খাল পারাপারের জন্য অর্ধনির্মিত লোহার কাঠামোর ওপর বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। এখন এই বাঁশের তৈরি সাঁকোই চার গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ার কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আশপাশের গ্রামের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করে। বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে সাঁকো পারাপারে চরম ভোগান্তি নিয়ে দিন কাটছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোহসীন উদ্দীন খান স্থানীয় খালের ওপর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রায় ১২০ ফুট প্রশস্থ খালের ওপর লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-এর অর্থায়নে ৬০ ফুট সেতুর কাজ শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান সেতুর মাত্র ৪০ ফুটের মতো লোহার খুঁটি ও কাঠামো স্থাপন করেন। ২০২১ সালে নির্বাচনে মোহসীন উদ্দীন খান পরাজিত হলে সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর নতুন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার কয়েকবার কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। ফলে প্রায় ৫ বছর ধরে লোহার কাঠামো পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা লোহার কাঠামোর ওপর বাঁশ ও গাছ দিয়ে সাঁকো বানিয়েছেন। সেই সাঁকোতেই ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করছেন। এমনকি গ্রামের ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। বর্ষা ও ঘন কুয়াশায় সাঁকোর বাঁশ ও গাছ পিছলে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন।
পূর্ব চরমালিয়া গ্রামের বজলুর রহমান খান বলেন, পশ্চিম ষোলঘর খালের ওপর একটি বড় সাঁকো ছিলো। ওই সাঁকো দিয়ে চরকালেখান ইউনিয়নের পশ্চিম ষোলঘর, ছত্রিশ ভেদুরিয়া, চরমালিয়া এবং সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামের মানুষের চলাচল করতে হয়। ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচলের জন্য সাঁকো ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ইউনিয়ন পরিষদ। ২০২১ সালে চেয়ারম্যান পরিবর্তন হওয়ায় পর সেতুটির নির্মাণ কাজও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চার গ্রামের মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
চরকালেখান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দ না পাওয়ায় কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলে পুনরায় সেতুটির কাজ শুরু করা হবে।

