বরিশালে ওয়াপদা কলোনিতে ওড়ে বিজয়ের পতাকা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৫১

১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাকবাহিনী সকাল থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিল। সীমান্তে মিত্র বাহিনী আক্রমণ শুরু করার পর ৭ ডিসেম্বর রাত থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। নগরীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা কলোনি) মধ্যে আটকে থাকা পাক সেনারা ও রাজাকাররা ১৭ ডিসেম্বর ৯ নং সেক্টরের সংগঠক নূরুল ইসলাম মঞ্জুর নিকট আত্মসমর্পণ করে। ওই আত্মসমর্পণের পর ওয়াপদা কলোনিতেই জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন করা হয়।

বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডার এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ৭ ডিসেম্বর দুপুরে পাক সেনারা গানবোট, লঞ্চ, স্টিমারে বরিশাল থেকে গোপনে নৌপথে পালিয়ে যেতে শুরু করে। এ উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী স্টিমার ইরানি, কিউইসহ গানবোট, লঞ্চ ও কার্গো বরিশাল স্টিমারঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এসব নৌযানে করেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাক মিলিশিয়াসহ শহরের একাধিক দালাল ও রাজাকার কমান্ডাররা বরিশাল ত্যাগ করে। পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলো চাঁদপুরের কাছে মেঘনার মোহনায় ভারতীয় বিমান হামলার কবলে পড়ে এবং কিউই জাহাজসহ গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়।

তিনি আরো বলেন, বরিশালের জুনাহারের কাছে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতে পাকবাহিনীসহ ইরানি জাহাজ নিমজ্জিত হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত সকল পাক সেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালালের সলিল সমাধি ঘটে। পাক বাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে আট মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে শ্লোগান দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে। পাক সেনাদের ক্যান্টনমেন্ট বলে পরিচিত ওয়াপদা অফিসে অবশিষ্ট রাজাকার ও আলবদররা বাংকারে আশ্রয় নেয়। অন্যদিকে গৌরনদীতে পাক বাহিনীর বিগ্রেডিয়ার কাহারের নেতৃত্বাধীন হানাদাররা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকে। 

১৭ ডিসেম্বর ৯ নং সেক্টরের সংগঠক নূরুল ইসলাম মঞ্জুর নিকট ওয়াপদা কলোনিতে থাকা ও গৌরনদীর পাক সেনা ও রাজাকাররা আত্মসমর্পণ করে। এ সময় ৯ নং সেক্টরের অপারেশন কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহফুজ আলম বেগ, ৯ নং সেক্টরের সহকারী অপারেশন কমান্ডার লে. তফাজ্জল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বরিশালে জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল বের হয়। ৯ নং সেক্টরের সহকারি অপারেশন কমান্ডার লে. তফাজ্জল হক চৌধুরী বলেন, ১৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের পর পাকহানাদার ও রাজাকারদের দখলে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা কলোনি) দখলমুক্ত করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিজয়ের উল্লাসে সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে বরিশালের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছিল।