চারদিকে সবুজের সমারোহ, মাঝখানে বীজতলা। ঘন কুয়াশার হাত থেকে সেই বীজতলা বাঁচাতে ৬ একরের বিশাল মাঠ ঢেকে ফেলা হয়েছে পলিথিনে। শীত মৌসুমে বোরো ধানের বীজ বাঁচাতে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঈশানপুর গ্রামের চাষি মো. সামসুল ইসলামের জমিতে দেখা গেছে এই চিত্র।
একই চিত্র উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। কৃষকরা বলছেন, এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার হাত থেকে বীজতলা বাঁচানো হচ্ছে। যা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পুরো উপজেলায়। এতে বীজতলা শীতের হাত থেকে যেমন রক্ষা পাচ্ছে, ঠিক তেমনি বীজগুলো পলিথিনের নিচে সতেজ থাকছে।
কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৫ শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বীজ তলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭৮ হেক্টর জমি। এই পদ্ধতি ব্যবহার করেও তীব্র শীতেও রক্ষা পাচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। তীব্র ঠান্ডাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কৃষকদের এই পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার ঈশানপুর গ্রামের বোরো চাষি মো. সামসুল ইসলাম বলেন, এবার ৬ একর জমিতে বোরো চাষ করবো। তাই ৬ একর জমিতে বীজ লাগিয়েছি। শীত-কুয়াশার হাত থেকে রক্ষার জন্য বীজতলায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।
একই গ্রামের চাষি মফিজ উদ্দীন এবার ৭ একর জমিতে বোরো চাষ করছেন। সেই জন্য ব্রীধান-২৯ ও ব্রীধান-৮৯ জাতের বীজ জমিতে বপন করেছেন। এই কৃষকের বীজতলাও ঢেকে দেওয়া হয়েছে পলিথিনে।
কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রাণী সেহান বীশ বলেন, উপজেলার কৃষকদের বীজতলাগুলোকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে যাতে চারাগুলি নষ্ট না হয়। এই বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

