ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৯, ২১:৫২

নুসরাতের যৌন হয়রানির ঘটনায় ব্যবস্থা না নিয়ে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিকে এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয় থাকার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জনপ্রশাসন ও শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ শুনানি করেন।

গত ২১ জুন ‘এডিএম এনামুলের ভূমিকা, পুলিশের তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন মন্ত্রণালয়ের’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পি কে এনামুল করিমের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়- পুলিশ সদর দপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি, তার কার্যপরিধি এবং তদন্ত কমিটি এডিএমের ব্যাপারে তদন্ত করেছে কী-না, করে থাকলে কোন এখতিয়ারবলে করেছে, তা স্পষ্ট করতে হবে। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করেন ইউনূস আলী আকন্দ। শুনানি শেষে হাইকোর্ট তদন্তের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করে। রুলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল করিম। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদদ্দৌলা কর্তৃক নুসরাতের যৌন হয়রানির পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দেন তার মা। কিন্তু ব্যবস্থা না নিয়ে দুর্ব্যবহার করেন এনামুল করিম। যা পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এরপরই এনামুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে এ রিট করা হয়।