রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকার ভেরিফিকেশন কার্ড দিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। ব্রিটেনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন বার্মা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্কের উদ্ধৃতি দিয়ে রেঙ্গুন ইউনিভার্সিটির রোহিঙ্গা ছাত্র ওয়াহিদুল করিম জানান, ভেরিফিকেশন কার্ডকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রথম ধাপ উল্লেখ করে তা গ্রহণের চাপ প্রয়োগ করলেও বছরের পর বছর রোহিঙ্গাদের আপন দেশে পরবাসী হিসেবে অনিশ্চিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কাজই প্রকৃত পক্ষে রাখাইনে বর্ণ বৈষ্যমকে বৃদ্ধি করেছে।
কুতুপালং বাজারে কাকতালীয়ভাবে দেখা রেঙ্গুনে সপরিবারে বসবাসরত ওয়াহিদুল করিম জানান, তার বেশ কয়েকজন নিকটাত্মীয় মধুর ছড়া ক্যাম্পে রয়েছেন। তাদের দেখার জন্য তিনি ১২ জুলাই বিমানযোগে ঢাকা হয়ে এখানে এসেছেন। রেঙ্গুনে তাদের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সেখানে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের অধিকাংশ শিক্ষিত ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকাণ্ডে জড়িত। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে বসবাস করলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। তারাও উগ্রবাদকে ব্যবহার করে সেখানে প্রতিষ্ঠিত করেছে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের চিহ্ন। তিনি আরো বলেন, ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতার কালো অধ্যায় শুরু হয় রোহিঙ্গাদের। এরপর কখনো নিবন্ধন, কখনো সবুজ রঙের রশিদপত্র, আবার কখনো হোয়াইট কার্ড, ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড কিংবা এনভিসির নামের পরিচয়পত্র নিয়ে ধাপে ধাপে মলিন হয়ে গেছে জাতিগত পরিচয়। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন তিনি । তবে ১৯৯১ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্প চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ জানান, মিয়ানমার তখনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাবে যখন রোহিঙ্গারা ভেরিফিকেশন কার্ড নিতে আগ্রহ প্রকাশ করবে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার ভেরিফিকেশন কার্ডে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে বলে প্রচার চালিয়েছে আসলে তা নেই। এ কার্ড দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে বিদেশিদের মতো আচরণ করা হচ্ছে। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হয়, তা কারও পক্ষে বলা কঠিন।
উখিয়া উপজেলা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী জানান, সমপ্রতি মিয়ানমারের নেপিডোতে অনুষ্ঠিত চতুর্থবারের মতো জাতীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে মিয়ানমার সরকার প্রত্যাবাসন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে রোহিঙ্গাদের আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্তজার্তিক দাতা সংস্থা ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসারযোগ্য।
