খুলনার দাকোপে ফকির ডাঙ্গা ও শিবনগর এলাকার মাঝে কামার গোদা নদীর ওপর জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীসহ এলাকার জনসাধারণ। ওই নদীর ওপর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি ব্রিজের স্বপ্ন আজও পর্যন্ত পূরণ হয়নি। এমনকি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক বার আবেদন করেও কোন প্রতিকার মেলেনি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছ, ২০০৯ সালে উপজেলার কামার খোলা ইউনিয়নের ফকির ডাঙ্গা, শিবনগরসহ আশ পাশ এলাকার জনসাধারণের অতি সহজে যাতায়াতের জন্য কামার গোদা নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়। কিন্তু সাঁকোটি মাঝে মধ্যে সংস্কার করলেও বর্তমানে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ওই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার শত শত মানুষ প্রতিদিন পারাপার হয়ে আসছে।
অনেকে আবার ভয়ে সাঁকো পার হতে না পেরে কয়েক কিলো মিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করছেন। মাঝে মধ্যে এ সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা খালে পড়ে বই খাতা ভিজিয়ে ডাঙ্গায় উঠতে দেখা গেছে বলে এলাকার অনেকে জানায়। এতে ছাত্র ছাত্রীসহ এলাকার জনসাধারণের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ ওই স্থানে একটি ব্রিজের দাবী করে আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বার বার ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও আজ পর্যন্ত ব্রিজের স্বপ্ন পূরণ হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
ফকির ডাঙ্গা এলাকার রণজিৎ কুমার মণ্ডল জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার লোকজন বার বার একটি ব্রিজের দাবী করে আসছে। জনপ্রতিনিধিরাও প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা রাখছে না।
ফকির ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন যাবৎ কোন সংস্কার করা হয় না। অথচ এই সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন ছাত্র ছাত্রীরা পারাপার হয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করে। সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময়ে ছাত্র-ছাত্রীরা নদীতে পড়ে যায় এবং বই খাতা নিয়ে ভিজে ডাঙ্গায় উঠে। আবার অনেক মায়েরা তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক পথ ঘুরে স্কুলে আসা যাওয়া করে। এখানে একটি ব্রিজ হলে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকাবাসীর অনেক উপকার হয়।
কামারখোলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর স্বপন কুমার মণ্ডল জানান, বৃহত্তর অত্র ওয়ার্ডে অবস্থিত ফকির ডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের ফকির ডাঙ্গা, শিবনগর, জয়নগর, কামারখোলা, চান্নিরচক, সাতঘরিয়া এলাকার ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করে। এই স্কুলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কামার গোদা নদী। ফলে ফকির ডাঙ্গা ও শিবনগর এলাকার মাঝে অবস্থিত এই জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে ওই স্কুলে যাওয়া-আসা করে। এছাড়া প্রতিদিন শত শত লোক পারাপার হয়। তা ছাড়া প্রতি বছর এই সাঁকো দুইবার মেরামত করতে হয়। কোন সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে না হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের। তবে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় এলাকার লোক জন ও ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক মিলে টাকা তুলে সাঁকো মেরামত করা লাগে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সাঁকোটি বেহাল অবস্থার কারণে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীসহ অনেকে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার লোকের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়ে সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রিজের জন্য এলাকার একজন প্রতিনিধি হিসাবে স্থানীয় এমপিসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে আবেদন করেও এখনো পর্যন্ত কোন প্রতিকার পায়নি। সাঁকোটির স্থানে একটি ব্রিজ হলে ছাত্র ছাত্রীসহ এলাকার জনসাধাননের চলাচলে এবং এলাকার কৃষি উন্নয়নে অনেক অগ্রগতি হবে বলে তিনি মনে করেন।
এবিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শরিফ মোহাম্মদ রুবেল বলেন, আমি কেবল মাত্র নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। সরেজমিন তদন্ত করে ব্রিজ নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

