শহরের ভালো শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলে চান ডিসিরা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:২১

গ্রামের স্কুলের শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে শহরের ভালো স্কুলের শিক্ষকদের গ্রামের স্কুলে অতিথি হিসেবে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। ডিসিদের এই প্রস্তাবের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালো শিক্ষকদের পাঠদানের উপকারিতা যাতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পেতে পারে, সেজন্য একটি টেলিভিশন চ্যানেল খুলে তাদের ক্লাস সম্প্রচারের ভাবনা রয়েছে সরকারের। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি একথা জানান। ডিসিরা তাদের প্রস্তাবে শিক্ষা টিভি চালুর কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় বা বেশ কিছু জায়গায় অত্যন্ত ভালো কিছু বিদ্যালয় রয়েছে, এসব বিদ্যালয় এবং শিক্ষকদের সুনাম রয়েছে। সে জন্য একটা শিক্ষা টিভির চিন্তা করা যেতে পারে। সেটি করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকরা অন্যদের শেখানোর পদ্ধতি থেকে উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যে যেখানেই থাকুক, একই মানের শিক্ষকদের শিক্ষাদান, পাঠদান থেকে উপকৃত হবে। কোচিংবাণিজ্য বন্ধ করা, নোট বা গাইড বই যেন একেবারেই না থাকে, খেলার মাঠ যেন নষ্ট না হয়—সে বিষয়ে ডিসিদের তদারকির নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে ডিসিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় সংগীত গাওয়া, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিসিদের ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।

ডিসিরা বলেছেন, সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক/কর্মচারীদের জন্য কোটা রয়েছে। কিন্তু সরকারি অন্য কোনো শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য কোটা রাখা হয়নি। এতে তাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তারা যদি কোথাও বদলি হয়ে যান তাদের সন্তানরা সেখানকার সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে, ফলে কোটা সংরক্ষণের কোনো বিষয় নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে মার্কেট তৈরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান ঢাকার ডিসি। প্রাথমিক বদলি সারা বছর চালু রাখা, কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি স্কুলের নিবন্ধন সহজ করা, পার্বত্য জেলাগুলোর দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের প্রস্তাব দেন ডিসিরা। এছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন। সম্মেলনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করার প্রস্তাব দেন ডিসিরা।