লিটনের বাদ পড়া ও ফেরার সম্ভাবনা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, ২১:০১

‘আমি পারফর্ম করতে পারিনি, তাই দলে নেই।’- চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ হারিয়ে সহজ উত্তর লিটন দাসের। এই উইকেটকিপার নিজেও বুঝতে পারছেন ‘নিষ্ঠুর সত্য’। কিন্তু তার ভক্ত কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের একটা অংশ ঠিক বুঝতে পারছেন না- কেন লিটনকে বাদ দিয়ে ঘোষণা করা হলো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল?

জাতীয় দলের জার্সিতে লিটনের ব্যাটে রান নেই। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাদা বলের ক্রিকেটে ছিল যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স। তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠতে পারে না। কিন্তু সামনের টুর্নামেন্টটি যখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, তখন নিয়মিত দলে থাকা একজনের বাদ পড়া নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। সারা বছর একজনের পেছনে শ্রম দিয়ে, আসল মঞ্চের আগে তাকে উপেক্ষা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্নও থাকতে পারে।

বড় টুর্নামেন্ট জিততে গেলে এক্স ফ্যাক্টরের প্রয়োজন হয়। মানে বড় কোনও তারকার, যিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। প্রতিপক্ষ দলের সমীহ আদায় করে নিতে পারেন। ফুটবল দিয়ে পরিষ্কার করা যাক বিষয়টি। ফর্মহীনতায় কিংবা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নেইমারকে নিয়ে যতই সমালোচনা হোক, শেষ পর্যন্ত বড় মঞ্চে ব্রাজিলের জার্সিতে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন এই ফরোয়ার্ড। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকায় সেটি ব্রাজিল হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে নেইমার না থাকায়।

তাই বলে লিটনকে নেইমার ভাবা বোকামি হবে। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে যখন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের মতো বড় মাপের খেলোয়াড় খেলছেন না, তখন লিটনই বড় চরিত্র হয়ে ধরা দিচ্ছিলেন। ধারেভারে সাকিব-তামিম থেকে লিটন অনেক পিছিয়ে। তবে ভক্তকূল ও তারকাখ্যাতিতে বর্তমান দলে এই উইকেটকিপারই সব থেকে এগিয়ে। তিনি বাদ পড়ায় স্কোয়াডের উজ্জ্বলতা কিছুটা হলেও কি কমে যায়নি?

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষণা করা হয়েছে ১২ জানুয়ারি। লিটনের বাদ পড়ার কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলছেন, ‘লিটন আউট অব ফর্ম। আউটের ধরণ অনেকটা একইরকম। সাদা বলে পাওয়ার প্লেতে যে সুবিধা নেওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে না। বিপক্ষ দলের অ্যানালিস্টরা লিটনের বিপক্ষে অনেক বেশি সফল হয়ে যাচ্ছে। তবু সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আস্থার জায়গাটা এই মুহূর্তে সেই অবস্থানে নেই।’ তার কথায় যুক্তি আছে। একজন খেলোয়াড়কে কত সুযোগ দেবেন তারা, যখন কোনও উন্নতি নেই। কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে যাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্ত করা হলো, সেই পারভেজ হোসেন ইমনেরই-বা কী এমন পারফরম্যান্স!

প্রধান নির্বাচক সেটা মেনেও নিয়েছেন। জানিয়েছেন, ইমনের পারফরম্যান্সও আহামরি নয়, তবে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই তরুণকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। লিপু সম্ভবত আসল কারণটা বলতে পারেননি। সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে সেটা বলাও যায় না। হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টের চাওয়াতেই লিটনকে বাদ দিয়ে ইমনকে নেওয়া হয়েছে। কারণ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াডে থাকলে লিটনকে একাদশে খেলাতেই হতো। এমন একজন ব্যাটারকে তো আর বসিয়ে রাখা যায় না। 

টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় ওপেনিংয়ে প্রথম পছন্দ হয়ে আছে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডের ব্যাটিং লাইনআপও সে কথাই বলছে। তানজিদ ও সৌম্য ছিলেন ওপেনারের ভূমিকায়, আর লিটন খেলেছেন ওয়ান ডাউনে। ওই সিরিজে না খেলা নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরেছেন স্কোয়াডে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার ওয়ান ডাউনেই খেলা কথা। সেক্ষেত্রে লিটনের একাদশে জায়গা হয় না। পরিকল্পনা যদি তেমনই হয়, তাহলে শুধু শুধু লিটনকে নিয়ে দল ভারি করতে হয়তো চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।

সেকারণে ফর্মহীনতার কথা বলে লিটনকে সহজেই বাদ দিতে পেরেছে নির্বাচক কমিটি। কিন্তু ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে এই ব্যাটারের একটি ইনিংস ‘গোছানো পরিকল্পনা’ এলোমেলো করে দিয়েছে। যেদিন বাদ পড়লেন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল থেকে, সেদিনই লিটন খেলেছেন রেকর্ডগড়া এক ইনিংস। চার-ছক্কায় সাজানো সেঞ্চুরিতে বাদ পড়ার জবাব দিয়েছেন ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে। সমান্তরালে দাবি উঠে যায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলে লিটনের অন্তর্ভূক্তির।

আইসিসির কাছে পাঠানোর পর কি আর দল পরিবর্তন করা সম্ভব? খুব সম্ভব। আইসিসি একটা নিয়ম করে দিয়েছে- কোনও টুর্নামেন্ট শুরুর একমাস আগে প্রাথমিক দল পাঠাতে হবে। তবে চোট কিংবা অন্য কোনও সমস্যার কারণে এই দল পরিবর্তন করা যাবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে। লিটনের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ তাই আছে। কিন্তু সেজন্য একটা সেঞ্চুরিই কি যথেষ্ট- এই প্রশ্নও তো তোলা যায়!

ইত্তেফাক/এএম