বগুড়ায় কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরি করে ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন রাজিয়া সুলতানা সুমি (৩০) ও শামিমা আকতার (৩৭) নামে দুই বোন। বর্তমানে এর মাধ্যমে তাদের মাসিক আয় হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সারে উপকারিতা বেশি, ফলে কৃষকের কাছে এর চাহিদা বাড়ছে।
জেলার শিবগঞ্জের কিচক ইউনিয়নের গড়িয়ার পাড়ার সেকেন্দার আলীর মেয়ে রাজিয়া সুলতানা সুমি। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকল্যাণে স্নাতক করেছেন তিনি।
জানা গেছে, সুমির ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল উদ্যোক্তা হবেন। সে লক্ষে ঢাকা থেকে করোনাকালে গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর নিজের বাড়িতেই শুরু করেন কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির প্রজেক্ট। সে সময় পাশে পান বড় বোন শামীমাকে। দুজন মিলে ২০২০ সালের অক্টোবরে গড়ে তোলেন শামীমা অ্যাগ্রো ফার্ম ও চেতনায়ন সংঘ। এরপর সেখানে তাদের সাথে আরও ১৬জন নারী কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
রাজিয়া সুলতানা সুমি বলেন, 'নিজেদের কর্মসংস্থানের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি শুরু করি। এর পাশাপাশি গ্রামের নারীদেরও এই কাজে যুক্ত করেছি। প্রথমে ২০১৯ সালের মে মাসে ২৫টি স্যানিটারি রিং বসিয়ে শেরপুর থেকে কেঁচো কিনে প্রজেক্ট শুরু করি। বড় বোন শামীমা আগে থেকেই গরু পালন করায় গোবরের জন্য চিন্তা করতে হয়নি। পরে ধীরে ধীরে সার তৈরি করে বিক্রি শুরু করি।'
ঢাবিতে পড়াশোনা করেও কেঁচো নিয়ে কাজ করায় সমাজে অনেক বাঁধা অতিক্রম করতে হয়েছে জানিয়ে সুমি বলেন, প্রথম দিকে অনেকই বাঁকা চোখে দেখছেন। এমনকি কেউ কেউ খামারে এসে থুথু ফেলে চলে গেছেন। কিন্তু আমরা মানসিকভাবে স্থির ছিলাম। সমালোচনা হবে জেনেই এই প্রজেক্ট শুরু করেছি। তবে মানুষ এখন কেঁচো সারের উপকারিতার বিষয়ে জেনেছে, এটাই আমাদের কাজের সার্থকতা। তাছাড়া নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য 'চেতনায়ন মহিলা সংঘ' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি।
তিনি আরও জানান, এখানে আমরা দুই বোন ছাড়াও ১১৬ জন নারী কাজ করছেন। আমরা তাদেরকে প্রথমে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। পরে আমরা ঢাবি এলামনাই থেকে অনুদান পেয়ে একটি ফান্ড গঠন করেছি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আমরা স্বল্প সুদে ঋণ পায়, যা আমাদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সার বিক্রি করে প্রতি মাসে ভাল উপার্জন করছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জৈব সার ফসল উৎপাদনে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে মনে করেন সুমি।
গড়িয়ার পাড়া গ্রামের নারী উদ্যোক্তা ও চেতনায়ন সংঘের সদস্য সালমা খাতুন বলেন, 'কেঁচো সার বিক্রি করে প্রতি মাসে নিজেই উপার্জন করছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও সহযোগিতা পেলে আমাদের প্রজেক্ট প্রসারিত হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, সুমিদের কেঁচো সার প্রজেক্টে প্রথম থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত আছে। তারা মানসম্মত সার তৈরি করছে। সেজন্য তাদের কেঁচো সারের মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও আমরা সহযোগিতা করছি। তাছাড়া তাদের প্রজেক্ট আরও প্রসারিত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠোপোষকতার প্রয়োজন হলে তার ব্যবস্থা করা হবে।
