নরসিংদীতে ডিশ ও ঝুট ব্যবসায় আধিপত্যের জেরে যুবদল নেতার গুলিতে মনজুর মিয়া (২২) নামে এক যুবক নিহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বখতিয়ার হোসেন নামে এক তাঁতীদল নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার শেখেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মনজুর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের পৌলানপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। সে চাকরির পাশাপাশি বখতিয়ারের সঙ্গে পার্ট টাইম ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কাজ করত। বখতিয়ার মেহেরপাড়া ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ইফতেখার আলম বাবলার ছোট ভাই। আহত বখতিয়ার হোসেন মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি।
আহত বখতিয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে শেখেরচর-বাবুরহাট বাজারে এক গ্রাহকের ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করছিল মনজুর। আমি বাজারে বেডশিটের কাপড় কিনতে আসছিলাম। সে সময় মনজু্রের সঙ্গে আমার দেখা হয়। হঠাৎ সেখানে আকরামসহ পাঁচ-ছয়জন লোক আসে। আমাকে দেখেই আকরাম বলে ওঠে, 'পাইছিরে' । এরপর গুলি করতে থাকলে আমার বাম হাতের আঙ্গুলে ও মনজুরের পেটে গুলি লাগে। এ ঘটনা দেখে মানুষ জড়ো হলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে আমাদের দুজনকে প্রথমে মাধবদীর প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আবার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মনজুর মারা যায়।
মনজুরের স্বজনরা জানান, দুই মাস আগে বখতিয়ারের কাছ থেকে চাকরি ছেড়ে সিগারেট কোম্পানিতে কাজ নেয় মনজুর। তার দুই বছরের এক ছেলে আছে। চাকরির টাকায় সংসার চালাতে কষ্ট হওয়ায় বখতিয়ারের সঙ্গে মাঝে মাঝে ওয়াইফাই ও ডিশ সংযোগের কাজ করত মনজুর।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, মেহেরপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন ও একই ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ইফতেখার আলম বাবলা এবং তার ভাই ইউনিয়ন তাঁতিদলের সভাপতি বখতিয়ার। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ডিশ ব্যবসা, জুট ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তারই জের ধরে তিন দিন আগে বখতিয়ারের ছোট ভাই জ্যোতিকে আকরাম ও তার সহযোগীরা মারধর করে। তার জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
