সঞ্জীব বর্মন, সহকারি শিক্ষক ও উদ্ভাবক, এটুআই
ভরট্ট পদুমশহর পঃ সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়, গাইবান্ধা
পরীক্ষণের নাম: পেরিস্কোপ
আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি করা হয়। পেরিস্কোপে দুটি সমতল দর্পনকে টিউবের মধ্যে ৪৫ ডিগ্রী কোণে স্থাপন করা হয়। স্টেডিয়ামে ভিড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য, বাঙ্কারে ওতপেতে থাকা সৈন্যরা ভূমিতে কী আছে তা দেখার জন্য এছাড়া সমুদ্র পৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়।
আজকের এই পরীক্ষণটির মাধ্যমে আমরা পেরিস্কোপ বানাতে এবং কার্যবিধি বর্ণনা করতে পারব।
পরীক্ষণটি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ যা যা লাগবে:২টি ৩.৫/৩.৫ ইঞ্চি সমতল দর্পণ, আর্ট পেপার/একটি শক্ত কাগজ।
কার্যপদ্ধতি:
î একটি শক্ত কাগজ ১৭/ ১৫ ইঞ্চি কেটে নিই।
î দুটি ৩.৫/৩.৫ ইঞ্চি সমতল দর্পণ বা আয়না নিই।
î কাগজটিকে সমতল দর্পণের সমান করে ভাঁজ করে নিই।
î এক প্রান্তে একপাশে কেটে বাহিরের দিকে ভাঁজ করে সমতল দর্পণটিকে গাম (আটা) দ্বারা লাগিয়ে ভিতরের দিকে ৪৫ ডিগ্রী কোণে ভাঁজ করে রাখি।
î অপর প্রান্তে আর একটি সমতল দর্পণ এমনভাবে সেট করি যেন এবার ভাঁজ করার ক্ষেত্রে দর্পণটি আগের বিপরীত দিকে থাকে।
î কাগজের দু-প্রান্তে সমতল দর্পণ দুটিকে এমনভাবে স্থাপন করি (৪৫ ডিগ্রী কোণে) যেন একটির প্রতিফলিত আলো অন্য দর্পণে পড়ে।
î এক প্রান্তে চোখ রেখে লক্ষ্য বস্তুর দিকে লক্ষ্য করি।
î বাঁকা পথে হলেও বস্তুর প্রতিফলিত আলোর দরুণ বস্তুটিকে দেখা যাবে।
পর্যবেক্ষণ:কেন এরকম ঘটনা ঘটে?
সিদ্ধান্ত:আলো এসে প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো যখন প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে, তখন যে বস্তুটি সরাসরি দেখা যায় না তা আমরা দেখতে পাই। অর্থাত্ আলোর দুবার প্রতিফলনের ফলে এরকম ঘটনা ঘটে।
