১১ ডিসেম্বর ১৯৩৮ ‘দি বেঙ্গল
কৃষি ইনস্টিটিউট’ নামে প্রতিষ্ঠিত
হয় দেশের কৃষি শিক্ষার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ। এরপর বিভিন্ন নামে পরিবর্তিত হয়ে ২০০১ সালের
১৫ জুলাই উন্নীত হয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯ বছরে পা দিলো। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- মো. আবু হানিফ
মো. শরিয়তউল্লাহ
এমএস অধ্যয়নরত, ইনস্টিটিউট অব সিড টেকনোলজি
জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাও প্রাণের ক্যাম্পাস, জন্মদিনের শুভেচ্ছা নিও আমবাগান, প্যারিস রোড, এগ্রোনমি ফিল্ড, মিনি মার্কেট, শাহিন চত্বর, সয়েলের মোড় ও হতাশার মোড়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের কৃষি শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এখান থেকে তৈরি হয়েছে দেশসেরা কৃষিবিজ্ঞানী, যাদের অবদানে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শেকৃবি ক্যাম্পাস আমার জীবনের অন্যতম একটা অংশ। দ্বিতীয় বাড়ি এটা আমাদের কাছে। ইট-পাথর আর যান্ত্রিক এ শহরে আমাদের ক্যাম্পাস সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেশনজট একটি বড়ো সমস্যা। প্রতি ব্যাচেরই চার বছরের কোর্স সাড়ে চার বছর থেকে পাঁচ বছর লেগে যায়। সেশনজট একজন শিক্ষার্থীকে শুধু সময় দিয়ে নয়, মানসিকভাবেও পিছিয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে চাকরির ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক ছাত্র তার নিজের অধিকার পাচ্ছে কি না এবং বরাদ্দ বাজেটের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে ছাত্র সংসদ অতীব জরুরি।
সিরাজাম মুনিরা তিথি
অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ, লেভেল-২, সেমিস্টার -১
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি। ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে এই ক্যাম্পাসে প্রথম পা রেখেছিলাম কিন্তু তখনো জানতাম না আমার ভবিষ্যত্ এখানেই। শেকৃবির শিক্ষার্থীদের দেশ ও দেশের বাইরের সাফল্য দেখে অনুপ্রেরণা পাই। সাউ সরিষা-১, সাউ সরিষা-২, সাউ সরিষা-৩, নন্দিনী ফুল, ক্যানসার প্রতিরোধী টমাটিলো, ছাদ বাগান, সাদা ভুট্টা, স্পিরুলিনা চাষ, হাইড্রোপনিক্স, এন্টিবায়োটিকের বিকল্প প্রোবায়োটিকের আবিষ্কার ইত্যাদি এখানকার গবেষণারই ফল। এত কিছু প্রাপ্তির মাঝে অপ্রাপ্তির তালিকাটাও অনেক দীর্ঘ। গবেষণা বৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও ছোট ক্যাম্পাসে গবেষণার জায়গা অপ্রতুল। এছাড়া রয়েছে শ্রেণিকক্ষ ও পরিবহন সংকট, নেই কোনো উন্নতমানের ক্যাফেটেরিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ পরিচিতির জন্য নেই কোনো ভাস্কর্য, যার নাম নিলেই চোখে ভাসবে শেকৃবির সৌন্দর্য। শিটনির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে শেকৃবির ভবিষ্যত্ খুব একটা সুখকর হবে না।
ুমো. নাহিদ হাসান
কৃষি অনুষদ, লেভেল-৩, সেমিস্টার-২
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার বুকে যেন ছোট্ট একটি গ্রাম। কোনো এক কুয়াশা ভরা সকালে এসেছিলাম এ ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে। যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের চাষ করে। আমাদের ক্যাম্পাস আয়তনে অনেক ছোটো। ফলে সব মুখগুলোই পরিচিত হয়ে যায়। বৃষ্টির দিনে ফুটবল খেলা খুব উপভোগ করি। ক্যাম্পাসের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এখানকার গ্রাজুয়েটরা যোগ্যতার যথার্থ প্রমাণ দিতে সক্ষম হচ্ছে। অনেক সমস্যার মধ্যে আবাসিক সংকট অন্যতম। শিক্ষার্থীরা প্রথম বছর গণরুমে থাকে। পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ পায় না। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিত্সা নিশ্চয়তার যথেষ্ট অভাব বিদ্যমান। যা শিক্ষার্থীদের মানসিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে, মাদক থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে। স্বপ্ন দেখি সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে একদিন স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যাম্পাসে পরিণত হবে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়।
রুনী খানম
ফিশারিজ এন্ড অ্যাকোয়াকালচার অনুষদ, লেভেল-৩, সেমিস্টার-১
২ জানুয়ারি ২০১৭ সাল। ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একই সঙ্গে যাত্রা শুরু হয় ফিশারিজ অনুষদের প্রথম ব্যাচের। মাত্র দুই জন শিক্ষক এবং ২৮ জন শিক্ষার্থী ছিলাম। ফিশারিজ অনুষদের নিজস্ব কোনো বিল্ডিং নেই, নেই কোনো ক্লাসরুম। হতাশা বহুগুণ বেড়ে গেলো, কিন্তু দুই জন স্যার আমাদের সব সময় আশার বাণী শুনিয়েছেন। মাত্র কয়েকজন মানুষ মিলে আমরা ছোটো একটি পরিবারে পরিণত হই। সময়ের সঙ্গে আমাদের পরিবারের সদস্য বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে বন্ধন, মায়া আর ভালোবাসা। কেউ ঘাসের ওপর বসে গল্প করেন, কেউবা ছবি তুলেন। ক্যাম্পাসে সব দিবস বা উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠান পালিত হয়। এখান থেকে অনেক কিছু শিখছি প্রতিনিয়ত। সব জেলার মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এখানে এসে। অস্তিত্ব ও পরিচয়ে মিশে গেছে প্রাণের এ ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আড়াই বছর প্রায় শেষ। এ অল্পসময়ে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানো কঠিন।
