ইভটিজিং বন্ধে তুবার কৌশল

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১৯:০৭

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কাজে লাগিয়ে প্রচুর অর্থ

সংগ্রহ করেন তুবা। যা গরিব, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে

ব্যয় করা হয়। পড়াশোনার ফাঁকে তুবা গরিব ছাত্রছাত্রীদের

পড়ান। এ জন্য কোনো টাকা-পয়সা তিনি নেন না

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

ছোটোবেলা থেকে মেয়েটি প্রতিবাদী। অন্যায়-অবিচার দেখলেই প্রতিবাদ করে। ক্যাম্পাসের কাছেই মেয়েদের ইভটিজিং করা হচ্ছে। কেউ যখন প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। তখন এগিয়ে আসে নাইমা মাহমুদ তুবা। শুধু কি প্রতিবাদ। ইভ টিজারদের একদিন জেলও খাটিয়ে ছাড়েন। এটা ২০১৬ সালের ঘটনা। তখন তুবা বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে পড়ত। শহরের আগরপুরের রোডের ইভ টিজাররা এখন আর নেই। মেয়েরা নির্ভয়ে যাতায়াত করছে। এ রকম অসংখ্য ইভটিজিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করেছে তুবা। ফলে ওই সব এলাকার মেয়েরা এখন শান্তিতে চলাচল করছে বলে জানা যায়।

সাহসী তুবা প্রতিবাদ না করলে এমন হয়তো হতোই না, বলল ফাইরোজ ইসলাম ঐশী। সে তুবার সহপাঠী। সাহস করে প্রতিবাদ করলেই হয়। ইভটিজারদের রোধ সম্ভব। মা-বাবা আমাকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছেন, বলল নাইমা মাহমুদ তুবা। তুবার বাবা আ ন ম  শামসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি মাদারীপুর সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজে শিক্ষকতা করতেন। এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার অকাল মৃত্যু হয়। তুবা এখন নোয়াখালী বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে  বাংলাদেশ অ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছে।

ক্যাম্পাসে কোনো মেয়ে বিপদে পড়ল, এমন সব বিপদ— যা সবাইকে বলাও যায় না, একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তারা তুবার কাছে ছুটে আসে। এক মেয়েকে তার ছেলে বন্ধু ব্যাকমেইল করতে যাচ্ছিল। মেয়েটি তুবার সাহায্য চায়। ক্যাম্পাসের বড় ভাইদের সাথে কথা বলে তুবা। মেয়েটির সমস্যার সমাধান করে দেয়। এমননিভাবে যার যখন প্রয়োজন হয়। তুবার সাহায্য চাইলেই পায়। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারলে আমার খুব ভালো লাগে। বলল নাইমা মাহমুদ তুবা।

ইভটিজিং প্রতিরোধ ছাড়াও তুবা বিভিন্নভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। ২০১৭ সালে তিনি স্বপালোড়ন বাংলাদেশ নামে একটি সমাজসেবামূলক সংস্থার সাথে কাজ  করেছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে স্বপালোড়ন কাজ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কাজে লাগিয়ে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেন তুবা। যা গরিব, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। পড়াশোনার ফাঁকে তুবা গরিব ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। এ জন্য ুেকানো টাকা পয়সা তিনি নেন না। ভার্সিটিতে বিতর্কের সাথেও জড়িত আছেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন রকম সচেতন-তামূলক কর্মকাণ্ডেও তুবা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতে তুবা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করতে চান বলে জানান।