জীবনযুদ্ধে থেমে নেই জামেলা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১৯:০৮

  মোহাম্মদ রনি খাঁ

 

সকাল ৬টা মুদির দোকান খুলছেন মধ্য বয়সি এক মহিলা। সাজিয়ে নিচ্ছেন দোকানের চা, বিস্কুট, পানসহ যাবতীয় জিনিসগুলো। ক্রেতাদের জন্য বসার টেবিলও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সে। বলছিলাম স্বামীর সংসার ছেড়ে আসা ৪ সন্তানের জননী জামেলা খাতুনের কথা। পনেরো বছর আগে ২০০৪ সালে ঢাকায় পাড়ি জমায় সে। টাঙ্গাইল সদর থানার গ্রামেড়র এলাকার বাসিন্দা সে।

জামেলা বাঁচার তাগিদে পাড়ি জমান আশুলিয়ায়। কারণ স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করে সংসার করে যাচ্ছিলেন জামেলা; কিন্তু স্বামীর অসহনীয় অত্যাচার জামেলা খাতুনকে বাধ্য করে অজানা ঠিকানার কঠিন পথ বেচে নিতে। স্বজন না থাকা শহরে পা রাখা অনেকটা দুঃস্বপ্ন ছিল জামেলা খাতুনের জন্য। কাঁধে ছোটো ছোটো অবুঝ চার সন্তানের চাপ। আশুলিয়ায় এসে বাসা-বাড়িতে কাজ শুরু করেন জামেলা। অপরিচিত বলে শুরুর দিকে কেউই কাজ দিতে চাইত না তাকে। আশুলিয়ায় আসার পরের বছর আশুলিয়ার বাইপাইল সংলগ্ন সড়ক জনপথের একপাশে ছোট একটি চায়ের দোকান গড়ে তোলেন জামেলা। পরিবারের অভাব অনেকটা কমতে থাকে। পাড় হতে থাকে সময়। ছেলেমেয়েরা বেড়ে ওঠতে থাকে। চলে যায় কয়েক বছর। এর পরে পরিবারের জন্য কাজ করতে শুরু করে ছেলেমেয়েরা। এভাবেই জীবন যুদ্ধের কথাগুলো জানাচ্ছিলেন জামেলা খাতুন।

ধোঁয়া ওড়তে থাকে গরম পানি; চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ করে পাড় হতে থাকে জামেলার সময়গুলো। ক্রেতার হাতে চা-বিস্কুট পৌঁছে দেওয়া জামেলার নিত্য দিনের কাজ। সকাল শেষে সূর্য ডোবে, ভোরের প্রহরে সূর্যের সঙ্গে আবার জেগে ওঠেন জামেলা। বিরতিহীনভাবে বাড়তে থাকে জামেলা খাতুনের চায়ের দোকানের ব্যস্ততা। আয় অল্প হলেও পরিবার নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে চলে যায় জামেলার জীবন। নিজের আয় দিয়ে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিলেন। কপালে সুখ সইল না জামেলার। বিয়ের পরে আলাদা হয়ে গেল ছেলেরা। কেউ খবরও নেয় না। কেমন আছে তাঁদের সংগ্রামী মা! তারপর যাত্রা শুরু হয় নতুন এক জীবন সংগ্রামের। বৃদ্ধ হলেও বেঁচে থাকার পথ ভুলেনি সে।