আমাদের দেশে রোগীপ্রতি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা সংখ্যার আনুপাতিক হার প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অথচ এই সেক্টরে দেশ-বিদেশে রয়েছে কর্মসংস্থানের অবাধ সুযোগ। এমন বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমাদের এবারের আয়োজনে ভবিষ্যতে নার্সিং পেশার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে কথা বলেছেন নার্সিংসহ মেডিকেল টেকনোলজি তথা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন শাখার এক সফল উদ্যোক্তা আবু হাসানাত মো. ইয়াহিয়া
বর্তমান সরকার জনশক্তিকে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে নারী সমাজকে সাবলম্বী করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। দেশে দক্ষ সেবিকা তৈরির মতো উপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই উক্ত উদ্যোগ তথা স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব বলে আমি মনে করি। যে কাজে সরকারের পাশাপাশি আমাদের উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আর এই অনুভূতি থেকেই আমার অন্যান্য শিক্ষাকার্যক্রমের পাশাপাশি সাইক নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করি এবং এই কলেজকে নার্সিং শিক্ষার আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা গুণগতমানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করে সাফল্যের সঙ্গেই এগিয়ে যাচ্ছি। ফলে আমরা সাড়াও পাচ্ছি, শিক্ষার্থীরা আমাদের উপর আস্থাশীল হচ্ছে। আমরা ২০০৩ সাল থেকে মেডিকেল টেকনোলজির ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স এবং পরবর্তীতে উচ্চতর পর্যায়ে বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি ডেন্টাল, বিএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি ল্যাবরেটরি, বিএসসি ইন ল্যাবরেটরি মেডিসিন (প্যাথলজি) কোর্স এবং স্নাতক পর্যায়ে এমএসসি ইন হেলথ টেকনোলজি কোর্স ও নার্সিং কোর্স পরিচালনা করছি। এখানে ব্যবহারিক ক্লাস তথা ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের জন্য রয়েছে নিজস্ব সাইক জেনারেল হসপিটাল, সাইক ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব এবং ৫০০ ছেলে-মেয়েদের পৃথক ছাত্রাবাস ও ৬০০০ বইসমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ইত্যাদি। ইন্টার্নশিপের জন্য নিজস্ব হসপিটালের পাশাপাশি দেশের বৃহত্তম হসপিটাল-ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষা, যেমন :ল্যাব মেডিসিন, ডেন্টাল ইত্যাদিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে আমাদের শিক্ষার্থীরা। সাইক থেকে পাস করা প্রায় সকল শিক্ষার্থীই দেশের সরকারি-বেসরকারি হসপিটাল-ক্লিনিক এবং বিদেশেও সম্মানজনক বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে, বিশেষ করে ঘন বসতিপূর্ণ দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা খাতে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের চাহিদা এখন প্রকট। কারণ, চিকিত্সা সেবা খাতটি কেবল চিকিত্সকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই খাতকে সচল রাখতে ডাক্তারদের পাশাপাশি সেবিকা ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই সেক্টরে পড়াশোনা করে তরুণ প্রজন্ম নিঃসন্দেহে পেতে পারে ভবিষ্যত্ কর্মময় জীবনের দিকনির্দেশনা।’
