কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পের শিশু আরাকানকে অপহরণ করে মাটির গর্তে পুতে ভিডিও ধারণ ও অপহরণের মুলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার ক্যাম্পের এফ-ব্লক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ।
গ্রেপ্তার অপহরণকারী নুর ইসলাম (২১) উখিয়া কুতুপালং রেজিস্টার ক্যাম্পের মৃত নুরুল হকের ছেলে।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ৮ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিশু আরাকানকে ছোলা মুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে সিএনজিতে তোলে নুর ইসলাম ও পলাতক আরেক অপহরণকারী সাদেক। তারা শিশু আরাকানকে থাইংখালি ১৯-নম্বর ক্যাম্প থেকে অপহরণ করে কুতুপালং ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পিতার কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। ভিকটিমের পিতা মুক্তিপণ দিতে না চাইলে অপহরণকারীরা আরাকানকে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুতে রেখে তার ভিডিও ধারণ করে। অপহরণকারীরা ঐ ভিডিও ভিকটিমের পিতার ইমুতে পাঠায়।
পরবর্তীতে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। পুলিশের তৎপরতায় অপহরণকারীরা ভিকটিম আরাকানকে উখিয়া কুতুপালং বাজারে রেখে চলে যাই। পরে ১৭ জানুয়ারি সকালে স্থানীয় লোকজন অপহৃত শিশু আরাকানকে পেয়ে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের টিম অপহরণকারীদের আটক করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। সবশেষে সোমবার বিকেলে কুতুপালং ক্যাম্প থেকে অপহরণকারী দলের মুলহোতা নুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তার সাথে থাকা অপর সহযোগীদের ধরতে অভিযান চলছে বলে উল্লেখ করেন এসপি।
অপরদিকে, আদরের সন্তানকে ছাড়াতে আরাকানের বাবা অপহরণকারীদের ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর ছেলে মুক্তি পেয়েছিল বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। তারা তার কাছ থেকে সাত লাখ টাকা দাবি করে। ছোট্ট শিশুকে মাটিতে পুঁতে রাখার ভিডিও পেয়ে ধার-দেনায় তিনি এ টাকা যোগাড় করেন বলে দাবি করেন। গ্রেপ্তার অপহরণকারীর কঠিন শাস্তির দাবি জানান সাধারণ রোহিঙ্গারা।
