মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি কমছে

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বিদায়ি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অর্থাত্ জুলাই থেকে মে পর্যন্ত মূলধনি যন্ত্রপাতির জন্য ৪৩২ কোটি ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৭ শতাংশ কম। এ ছাড়া চাল, গম, চিনি, পেঁয়াজ, ওষুধসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের এলসি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে অর্থাত্ ১১ মাসে মোট এলসি খোলা হয়েছে ৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৫৪০ কোটি ডলার সমপরিমাণ। এ হিসাবে ১১ মাসে ১ হাজার ১৪৫ কোটি ডলার এলসি কমেছে যা যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১৭ শতাংশ কম। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির বাইরে অন্যান্য খাতের এলসি কমেছে এক হাজার ১০১ কোটি ডলার। মূলত গত অর্থবছরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের জন্য বড়ো অঙ্কের এলসি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে একবছরের ব্যবধানে এই ১১ মাসে ওষুধ, টেক্সটাইল ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজ, কেমিক্যাল পণ্য পেপারের এলসি কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছর বন্যায় প্রচুর ফসলহানি হয়। এবার ফসল উত্পাদন স্বাভাবিক থাকায় গত বছরের মতো চাল ও গম আমদানির চাহিদা নেই। গত অর্থবছরের জুলাই-মে পর্যন্ত চাল আমদানির জন্য মাত্র ৬ কোটি ৮২ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে খোলা হয় ১৯৮ কোটি ডলার। চালের এলসি কমেছে ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গমের এলসি ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে ১২৫ কোটি ডলারে নেমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চিনির এলসি আগের অর্থবছরের ৭৭ কোটি ডলার থেকে ৫৬ কোটি ডলারে নেমেছে। পেঁয়াজের এলসি ৩৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে ২০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ভোজ্য তেলের এলসি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমে খোলা হয়েছে ১৫৩ কোটি ডলার।

হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে অনেক পণ্যের এলসি কমলেও ব্যাপকভাবে বেড়েছে সিমেন্টের কাঁচামালের। সিমেন্টের কাঁচামালের ২২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ডলারের এলসি করা হয়েছে। এছাড়া তেলবীজ, ডাল, দুগ্ধপণ্য, সুতা তৈরির সরঞ্জাম, সুতা, ওষুধের কাঁচামাল, স্ক্র্যাপসহ বিভিন্ন পণ্যের এলসি বেড়েছে।