আড়াই কি.মি সড়কের কাজ শেষ হয়নি ৩ বছরে, ঠিকাদার লাপাত্তা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:৩০

সড়কটি প্রায় আড়াই কিলোমিটার। ওই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। তবে কাজ শুরুর প্রায় ৩ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কাজ ফেলেই উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদার। এমনকি মুঠোফোনেও মিলছে না তার সাক্ষাত।

খুলনার কয়রা উপজেলায় সদরের মদিনাবাদ মডেল সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মোড় থেকে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট অভিমুখে সড়কের সংস্কার কাজকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় প্রকোশলী অধিদপ্তর বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের কাজ বাতিল করার চেষ্টা চলছে। সড়ক মেরামতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের কারণে এ সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। খানাখন্দ সংস্কার করে সড়কটি নতুন করে কার্পেটিং করার জন্য বরাদ্দ হয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

কাজের দরপত্র পায় মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে তারা কাজ শুরু করে। কয়েক মাস ধরে রাস্তা খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান। গত ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা শেষ হলেও বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের নামে পুরোনো সড়কটি খুঁড়ে বালু, কংক্রিট (খোয়া) ফেলে রেখে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব খোয়াও সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন সড়কের কাজ না করায় যানবাহন চলাচলের সময় উড়ছে ধুলাবালি।ধুলা থেকে বাঁচতে নাকে কাপড় বেঁধে চলাচল করছে যাত্রীরা। সড়কের আশপাশের গাছপালা এবং ঘরবাড়ি ইটের ধুলায় ধূসর হয়ে গেছে। বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সড়কে চলছে। মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্রেক চাপলে চাকা পিছলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের সাবেক অধ্যাপক আ.ব.ম আব্দুল মালেক বলেন, ‘রাস্তার এই করুণ দশায় দুর্ভোগে আছি। রাস্তায় বের হলে শরীর এবং পোশাকের রং ধুলাবালিতে পরিবর্তন হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে বসবাসরত বাড়িঘর ও গাছপালা  ধুলার আবরণে চেনার উপায় নাই। ধুলার  কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে এ নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তপন চক্রবর্তীর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী মো. দারুল হুদা  বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের কোনো খোঁজ নেই। মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। চুক্তি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র দিয়ে কাজটি শেষ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকোশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার  বলেন, মেসার্স রাকা এন্টারপ্রাইজের  কাজটি বাতিল করা হয়েছে। কাজটা তারা সঠিক সময়ে শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে  জরিমানা করা হবে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে নতুন করে কাজের দরপত্র দেওয়া হবে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

ইত্তেফাক/এপি