ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
রেলের পশ্চিম জোনে অনুমোদিত ও অননুমোদিত ১১১৯ লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই। এ সমস্ত লেভেল ক্রসিং নিজ দায়িত্বে সতর্কতার সঙ্গে পারাপার হতে হয়। অনেকে অসতর্কতার সঙ্গে লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে হতাহত হয়ে থাকেন। গেটম্যান বিহীন লেভেল ক্রসিংয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
রেলওয়ের পশ্চিম জোনের এক কর্মকর্তা জানান, পাকশী ডিভিশনে ৬২৫টি অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং ও ৮৭টি অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং আছে। লালমনিরহাট ডিভিশনে ৪৩টি অনুমোদিত ও ৯৯টি অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং আছে। পাকশী ডিভিশনের ডিটিও আব্দুল আল মানুন জানান, তার ডিভিশনে ৬০টি গেটে ৩০১ জন গেটম্যান আছে।
হিসাবে দেখা যায়, পাকশী ডিভিশনে ৬৫২ লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই। লালমনিরহাট ডিভিশনের ডিটিও মো. শওকত জামিল মহসিন বলেন, অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ের কোনোটিতে গেটম্যান থাকে। আবার কোনোটিতে গেটম্যান থাকে না। লালমনিরহাট ডিভিশনে ৩৫ লেভেল ক্রসিংয়ে ৭৩ জন গেটম্যান কর্মরত আছে। এ হিসাবে ৪৬৭টি লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই। যে সকল লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান আছে, তারা ট্রেন আসার আগে গেট বন্ধ করে। ট্রেন ক্রস করলে গেট খুলে দেন। আবার অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ের যেগুলোতে গেটম্যান নেই। তার দুই পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকে। তাতে লেখা থাকে নিজ দায়িত্বে পারাপার হবেন। দুর্ঘটনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
বর্তমানে রাস্তাঘাট বেশি হওয়ায় যত্রতত্র দিয়ে রেললাইন পার হচ্ছে মানুষ ও যানবাহন। এতে অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে না। বিশেষ করে যানবাহনের চালকেরা। তারা দ্রুত পার হতে চায়। কোনো দিক খেয়াল করে না। এরাই বেশি দুর্ঘটনায় পড়ে। রেল ক্রসিংয়ের হিসাব রাখে ট্রাফিক শাখা ও ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা। তবে ক্রসিংয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।
