খোন্দকার এহিয়া খালেদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত নতুন জাতের তোষা পাট-৮(রবি-১) কৃষককে সোনালি দিনের হাতছানি দিচ্ছে। চলতি মৌসুমে এ জাতের পাট হেক্টরে ৩.৪৫ টন ফলন দিয়েছে। বাংলাদেশ পাটবীজের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু কৃষক পর্যায়ে পাটের এ উন্নত জাতের বীজ উত্পাদন করে দেশ পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে।
ফরিদপুর পাট গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ড পাটের নতুন এ জাতটি অবমুক্ত করে। চলতি পাট মৌসুমে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলার ৪৯২ হেক্টর জমিতে ৬৪০টি প্রদর্শনী প্লটে কৃষক উন্নত জাতের এ পাটের আবাদ করেন।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার জঙ্গল মুকন্দপুর গ্রামের কৃষক মো. মুক্তার হোসেন বলেন, এ বছর ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে উন্নত জাতের পাট আবাদ করেছি। ফরিদপুর আঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্র বিনামূল্যে বীজ, সার কীটনাশক ও পরামর্শ দিয়েছে। পাটে তেমন রোগবালাই দেখা দেয়নি। মাত্র ১০০ দিনেই এ পাট খেত থেকে কাটা গেছে। এ পাটের আগা মোটা। তাই এ পাটে ফলন বেশি দিয়েছে। পাটের আঁশের রং সোনালি ও মানের দিক দিয়ে খুবই উন্নত। বাজারে এ পাট বেশি দামে বিক্রি হবে। এ জাতের পাট আবাদ করে লাভবান হয়েছি। তাই আগামীতে আমার প্রতিবেশি কৃষকরা এ জাতের পাট আবাদে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আশা করছি আগামী বছর আমাদের এলাকায় লাভজনক এ জাতের পাটের আবাদ সম্প্রসারিত হবে।
ফরিদপুর আঞ্চলিক পাট গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, এ জাতের পাট ইন্ডিয়ান জেআরও-৫২৪ জাতের পাটের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ ভাগ বেশি ফলন দেয়। জুলাই মাসে খেতে পাট বপন করলে তা থেকে পাটের এ জাতের বীজ পাওয়া যাবে। এছাড়া এখন খেতের পাট না কেটে খেতে রেখে দিলেও বীজ জন্মাবে। দেশে এ জাতের পাটবীজ কৃষক পর্যায়ে উত্পাদন করে ইন্ডিয়া থেকে পাটবীজের আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব। এতে দেশ উন্নতমানের পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। এ জাতের পাট আবাদ করে কৃষক সব দিক দিয়ে লাভবান হবেন। কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।
কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রসময় মণ্ডল বলেন, নতুন জাতের পাট আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দেশে এ জাতের পাটের আবাদ সম্প্রসারিত হলে কৃষক পাটবীজ ও পাটকাঠি উত্পাদন বৃদ্ধি করতে পারবেন।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি বিভাগের পরিচালক ড. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, নতুন জাতের পাট কৃষককে সোনালি দিনের হাতছানি দিচ্ছে। এ পাট জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্ত ঝুঁকি মোকাবিলা করে সর্বোচ্চ ফলন দিতে সক্ষম। উপযোগিতা যাচাই করে এ জাতের পাটের বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে। এতে করে পাটের সুদিন ফিরে আসবে।
