রাউজানে চিকিত্সক সেজে ১২ বছর!

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:১৯

ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড

 রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

রাউজানে তাপস কুমার চৌধুরী (৪৩) নামে এক ভুয়া চিকিত্সকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত এই ভুয়া চিকিত্সক উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রাজা রামের বাড়ি মৃত বাবুল চৌধুরীর পুত্র।

গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাউজান উপজেলার পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের ঢালারমুখ চৌধুরী মার্কেটের চেম্বার রত্না মেডিক্যাল হলে অভিযান চালিয়ে ঐ ভুয়া চিকিত্সককে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহেছান মুরাদ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় সঙ্গে ছিলেন সুলতালপুর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার চিকিত্সক শান্তনু পালিত।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, তাপস কুমার চৌধুরী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে এই চেম্বারে সর্বপ্রকারের চিকিত্সা দিয়ে আসছিলেন। গত ১০ জুলাই উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালারমুখ এলাকার শেখ আহমেদের ১২ বছর বয়সি পুত্র শাহেদুল ইসলাম জ্বরে আক্রান্ত হলে তারা তাপস কুমার চৌধুরীর শরণাপন্ন হন। তার দেওয়া ব্যবস্থাপত্রানুসারে ঐ কিশোরকে ওষুধ খাওয়ালে তিন ঘণ্টা পর সে মারা যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা এ কথা ইত্তেফাক প্রতিবেদককে জানালে এই প্রতিবেদকের সরেজমিন অনুসন্ধানে বিষয়টি ধরা পড়ে।

অভিযুক্ত তাপস কুমার তার ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে নিরব থাকেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এহেছান মুরাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুয়া চিকিত্সক হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করেন।

এই সময় এই ভুয়া চিকিত্সক হাটহাজারী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের একটি সনদ ছাড়া আর কোনো সনদ দেখাতে পারেননি। চিকিত্সক পরিচয় দিয়ে চিকিত্সা চালিয়ে যাওয়ার অপরাধে তাকে একলাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।