সাত বছরেও শেষ হয়নি ওসমানী উদ্যানের উন্নয়নকাজ

জনসাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:৪৬

সাত বছর ধরে টিন আর কংক্রিটের তৈরি প্রাচীরে আবদ্ধ রয়েছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। সংস্কার ও আধুনিকায়ন শেষে ১০ মাস পরে খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও এটির এখনো কাজ শেষ হয়নি। সিটি করপোরেশনের ভাষ্য, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এ সমস্যা হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। কাজ চলছে। দ্রুতই খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদদের দাবি, ওসমানী উদ্যান সাধারণ মানুষের সম্পত্তি, এটি বন্ধ রাখা অন্যায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজধানীতে পার্ক, উদ্যান, খেলার মাঠের এমনিতেই সংকট। যেগুলো আছে সেখানে কংক্রিটের ব্যবহার করে, উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি করে সেগুলোর আসল রূপ নষ্ট করা হচ্ছে।' উন্নয়নকাজ শেষ করতে এত বছর কেন লাগল, এ বিষয়েও তদন্ত হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের ঠিক উলটো দিকে এবং সচিবালয়সংলগ্ন ২৪ একর জায়গার ওপর ওসমানী উদ্যান। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল
মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর নামে উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। এখানে রয়েছে সবুজ গাছগাছালি, ছায়ায় ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ, আছে দুটি জলাশয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে উদ্যানটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের শেষের দিকে। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে ওসমানী উদ্যানে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অস্থায়ী প্রাচীরে ঘিরে ফেলা হয় চারিদিক। তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন উদ্যানটির নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘গোস্সা নিবারণী পার্ক'। সাঈদ খোকনের মেয়াদ শেষে দায়িত্ব নেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তার সময়েও শেষ হয়নি এ পার্কের কাজ।

প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯০ কোটি টাকা। পরে মেয়র তাপস এসে ওসমানী উদ্যানের নাম পরিবর্তন করে 'গোস্সা নিবারণী পার্ক' রাখার বিরোধিতা করেন। সিদ্ধান্ত হয় আগের নামই থাকবে। ওসমানী উদ্যানের অবকাঠামো উন্নয়নের নামে গত ৭ বছরে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। খরচ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সেখানে আরো ৩০ কোটি টাকা খরচের পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে ওসমানী উদ্যানের উন্নয়নে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

পার্কটিতে হবে নগর জাদুঘর, একটি পাঠাগার, নির্দিষ্ট জায়গায় একাধিক খাবারের দোকান, গাড়ি রাখার স্থান, ব্যায়ামাগার, শিশুদের খেলার জায়গা, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, টেবিল টেনিস ও বিলিয়ার্ড খেলার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া এখানে থাকছে এটিএম বুথ ও ওষুধের দোকান। এখন লেকের পাড় উন্নয়ন, ঘাট তৈরি, মাঠ উন্নয়ন ও বিদ্যুতের উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

এলাকাবাসী জানান, এখানে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতেন। বিকালে বাচ্চারা খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়ি করত। কিন্তু অনেক বছর হলো ওসমানী উদ্যান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমরা পার্কটি ব্যবহার করতে পারছি না। উন্নয়নের নামে সিটি করপোরেশন দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ করে রেখেছে। তারা পার্কটি দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এত দেরি হয়েছে। নানা অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। পরে ঐ ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারাও কাজ করতে দেরি করেছে। এখন দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্যানটির প্রকল্প পরিচালক খায়রুল বাকের বলেন, ‘এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করে এটি উন্মুক্ত করে দিতে আমরা কাজ করছি। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

ইত্তেফাক/এনএন