অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল!

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:২৩

এনামুল হক, খুলনা অফিস

আড়াইশ’ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ৫শ’ শয্যার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। জনবল সংকটের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড়ো এ চিকিত্সা কেন্দ্রটিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে মাত্র ৩০ বেড নিয়ে চালু হয় ৫শ’ শয্যার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০০৮ সালে ৫শ’ শয্যার হাসপাতালে রূপ পায় এটি। কিন্তু শুরুর দিকে যে জনবল ছিল তাই দিয়েই চলছে হাসপাতালটি। ফলে স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালুর পর থেকেই এখানে রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। তবে সেই তুলনায় বাড়েনি জনবলসহ চিকিত্সা প্রদানের সুযোগ-সুবিধা।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্যানেল পরিচিতি সভায় তত্কালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে (খুমেক) এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর দীর্ঘ চার বছর কেটে গেলেও তার সে ঘোষণা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

খুমেক হাসপাতালটি ৫শ’ শয্যার হলেও প্রতিদিন রোগী থাকে এক হাজারেরও বেশি। অথচ ২০১৬ সালের দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছিল ৫শ’ শয্যার হাসপাতালটি চালাতে গেলে ১ হাজার ৯৩৬টি পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। অর্থাত্ বিদ্যমান ৬৩১ জনের পর আরো ১ হাজার ৩০৫টি পদ সৃষ্টি করে লোক নিয়োগ দেওয়া হলেই কেবল ৫শ’ শয্যার হাসপাতালটি সুষ্ঠুভাবে চালানো সম্ভব। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তারপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সর্বশেষ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কর্তনের পর এক পর্যায়ে শুধুমাত্র ১৬৪টি চিকিত্সকের এবং ছয়টি নার্সিং সুপারভাইজারের পদ অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আরো ১১৪টি পদ সৃষ্টি করে চলছে অস্থায়ীভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া। অর্থাত্ পরবর্তিতে ১ হাজার ৩০৫ জনের চাহিদার বিপরীতে অনুমোদন দেওয়া হয় মাত্র ২৮৪ জন। এর মধ্যে ১১৪ জনই আউটসোর্সিং কর্মচারী। এতে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যা হচ্ছে।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ নানা সংকটের মধ্যেও হাসপাতালটিকে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করে বলেন, জনবল সংকট দূর এবং পৃথক টয়লেট সেকশন তৈরি করা গেলেই রোগী সেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি হাসপাতালের চিত্রই বদলে যাবে। তিনি বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট থাকলেও রোগীদের চিকিত্সা সেবার কোনো কমতি নেই। ইতিমধ্যে রোগীর খাবারের মানের পরিবর্তন করা হয়েছে। অক্সিজেন সংকট নেই। তাছাড়া ওষুধ পাচার রোধ, অক্সিজেন সংকট দূর, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বাণিজ্য বন্ধ করা হয়েছে। দালালদের মাধ্যমে বাইরে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার প্রবণতা রোধ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ ব্যাপারে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সদস্য শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, জনবলের অভাবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রোগীদের চাহিদা বিবেচনা করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত ও বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।