আলোকপাত

দেশের ডেইরি শিল্পের সাফল্য

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:২৮

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

আমাদের দেশের ডেইরি শিল্প ধীরে ধীরে অনেক এগিয়ে গেছে। ডেইরি শিল্পের বদৌলতে দেশের দুধ ও মাংসের চাহিদা অনেক পূরণ হচ্ছে। ডেইরি শিল্পের মাধ্যমে আমাদের দেশের গবাদি পশুর উত্পাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা দেশে রয়েছে অসংখ্য ডেইরি ফার্ম। এসব ডেইরি ফার্মে প্রতিবছর গবাদি পশুর সংখ্যা কেবল বেড়েই চলেছে। ডেইরি ফার্ম ছাড়াও অনেকে মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারেও মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা কেবল বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বিদেশি গরু আমদানি বন্ধ হওয়ায় দেশের মানুষ দেশীয় গরু দিয়ে চাহিদা পূরণ করছে। আগে বিদেশি গরু আসার কারণে দেশের গবাদি পশুর খামারিরা লাভের মুখ দেখতে পেতেন না। বর্তমানে দেশীয় গরুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিরা লাভের মুখ দেখছেন এবং ডেইরি শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গত বছর কোরবানির হাটে বিদেশি গরু তেমন একটা চোখে পড়েনি। বাজারে শুধু দেশি গরু দেখা গেছে। তাছাড়া গত বছর কোরবানির আগে দেশীয় খামারিরা বিদেশি গরু আমদানি বন্ধের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। সরকারও বিদেশি গরু আমদানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এতে দেশীয় খামারিদের জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, আমাদের দেশে প্রতিবছর ১ কোটি ২০ লাখের মতো গবাদি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। গত বছর গবাদি পশুর মজুত ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখের মতো। তথ্যে আরো জানা যায়, দেশ জুড়ে সারা বছর প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গবাদি পশু জবেহ হয়। এর মধ্যে পঞ্চাশ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। সুখের কথা হলো দেশে যেভাবে গবাদি পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এবারের কোরবানির ঈদে গরু ছাগল নিয়ে এ দেশের মানুষকে তেমন টেনশন করতে হবে না। ভারত বা অন্যান্য দেশ থেকে গরু না এলেও কোনো সমস্যা হবে না। দেশে এখন বিপুলসংখ্যক গবাদি পশু মজুত রয়েছে। আমাদের ডেইরি শিল্প যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুধ ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এদেশ। আমাদের দেশে ডেইরি শিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। দেশের ডেইরি শিল্প বিকাশের ব্যাপারে আমাদের দেশে যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগতে পারলে ডেইরি শিল্প আরো এগিয়ে যাবে। দেশে অনেক খালি জায়গা পড়ে আছে। এসব জায়গায় ডেইরি শিল্প গড়ে তোলা যায়। এই লক্ষ্যে দেশের বেকার তরুণ যুবকদের খালি জায়গা বন্দোবস্ত দিয়ে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে ডেইরি খামার গড়ে তোলার সুযোগ করে দিলে ডেইরি শিল্পে বিপ্লব ঘটে যাবে। উন্নত বিশ্বে এ ধরনের ডেইরি খামার রয়েছে। আমাদের দেশে নতুন নতুন ডেইরি শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে যেসব ডেইরি শিল্প রয়েছে সেগুলোকে আরো সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে উত্সাহিত করতে হবে। দেশের গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে বিদেশ থেকে আর গবাদি পশু আমদানি করতে হবে না। দেশে উত্পাদিত গবাদি পশু দিয়ে চাহিদা পূরণ করা যাবে। তাছাড়া আমাদের দেশে মাংসের উত্পাদন বৃদ্ধি পেলে বিদেশে মাংস রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্ভাবনাময় ডেইরি শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এখনই সময়। দেশ পালটে গেছে, সময়ও পালটে গেছে। এখন সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ। এই সমৃদ্ধিকে ধরে রাখতে এখনই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

n লেখক : বীমা কর্মকর্তা