ব্রহ্মপুত্র নদের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা কৃষিশিক্ষার প্রচীনতম প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সম্পূর্ণ আবাসিক সুবিধা সম্পন্ন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৩টি হল (ছেলেদের ৯টি ও মেয়েদের ৪টি) আছে। গ্রাজুয়েট, আন্ডার-গ্রাজুয়েট ও মাস্টার্স মিলে এখানে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ১২০০ নবীন শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়। তাদেরকে হল বরাদ্দ দেওয়া হলেও সিট দেওয়া হয় না। প্রত্যেককেই থাকতে হয় গণরুমে (রুম অনুসারে প্রায় ১০-২৫ জন)। মেয়েদের এক অংশকে আবার হেলথ কেয়ার সেন্টারেও রাখা হয়। যে কারণে পড়াশোনার পরিবেশ না পেয়ে অনেকেই ছিটকে পড়ছে। এছাড়া হলগুলোতে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের কেউ কেউ এক রুমে ৪ জনের জায়গায় ১/২ জন করে থাকে, যার কারণে অন্যদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। এছাড়া অনার্স, মার্স্টাস শেষ করে অনেকেই দীর্ঘদিন হলে থাকে। এমনকি চাকরি পাবার পরে সিট ছাড়ে না এমন সংখ্যাও কম না। যার কারণে নবীন শিক্ষার্থীদের জায়গা হয় গণরুমের মতো জায়গায়। গরমে ফ্লোরিং করে এক রুমে ১০ জন থাকা বেশ কষ্টকর। দ্বিতীয় বর্ষে উঠেও একটা বেড আর টেবিল তো দূরে থাক, গণরুম ছাড়ার উপায় হয়ে ওঠে না অনেক হলের শিক্ষার্থীদের। যার কারণে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। নতুন হল করার কথা থাকলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। সবার মনেই একই প্রশ্ন—এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? কবে পাব পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ? আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশবান্ধব আবাসিক ব্যবস্থার কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
তানিউল করিম জীম
কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ,
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
