যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া নিয়ে উত্তর কোরিয়া
রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা অব্যাহত থাকলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরমাণু আলোচনা ঝুঁকির মুখে পড়বে। উত্তর কোরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এমন কথাই বলেছে। এদিকে পারমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসলে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ‘আরো কিছুটা সৃজনশীল’ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএতে প্রকাশিত বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাহলে পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করবে। আগামী আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক মহড়ার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটা পরিষ্কার যে এটা সত্যিকারের একটি অনুশীলন এবং আকস্মিকভাবে হামলা করে আমাদের দেশ দখল করার একটি মহড়া।’ উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের পরমাণু আলোচনা শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া বড়ো ধরনের সামরিক মহড়া না চালালেও, ছোটো আকারের মহড়ায় অংশ নিয়েছে।
এদিকে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসলে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ‘আরো কিছুটা সৃজনশীল’ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। ‘দ্য শন হ্যানিটি শো’ নামের এক রেডিও সাক্ষাত্কারে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু বিষয়ক আলোচনা নিয়ে কথা বলেন পম্পেও। তবে ঐ আলোচনা কবে শুরু হতে পারে, সে ব্যাপারে কিছু জানাননি তিনি। জুন মাসের শেষ দিকে তিনি বলেছিলেন, জুলাই মাসের যে কোনো সময় আলোচনা শুরু হতে পারে। খুব সম্ভবত আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের ভেতর দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক শুরু হবে বলে আভাস দিয়েছেন পম্পেও।
গত মাসে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে দেখা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনা চলাকালে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে উত্তর কোরিয়ায় পা রাখেন তিনি। দুই কোরিয়ার সীমান্তে পানমুনজমের অসামরিকায়িত অঞ্চলে ট্রাম্প-কিম সাক্ষাত্ হয়। উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশের পর কিমের সঙ্গে হাত মেলান এবং কিছু সময় সেখানেই তার সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এরপর কিমকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। পানমুনজমে ট্রাম্প-কিম তৃতীয় বৈঠক হয়। এর আগে কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক উত্তেজনার মধ্যেই গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দুই নেতার বৈঠক হয়।
