৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন

ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:৫০

পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ও ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদক পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান (সাময়িক বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত  একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর পরিচালক এনামুল বাছিরকে নিয়োগ করে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধান চলাকালে গত ৯ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করে বলে খবর প্রচারিত হয়। বিষয়টি দুদকের গোচরীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাত্ক্ষণিকভাবে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিআইজি মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। অতঃপর কমিশন বিষয়টি অধিকতর অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম গঠন করে।

অনুসন্ধানকালে দুদক টিম প্রমাণ পায় যে, ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান গত ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে একটি ব্যাগে করে কিছু বইসহ ২৫ লাখ টাকা খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রদান করেন। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিআইজি মিজানুর রহমান অপর একটি শপিং ব্যাগে করে ১৫ লাখ টাকা রমনা পার্কে গিয়ে খন্দকার এনামুল বাছিরকে দেন। এনিয়ে ডিআইজি মিজানুর রহমান মোট ৪০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদান করেন এনামুল বাছিরকে। এছাড়া মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছিরের মধ্যকার কথোপকথন পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, এনামুল বাছির তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনা-নেওয়ার জন্য একটি গাড়ি দাবি করেন। গাড়ি দাবির বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বিভাগীয় তদন্ত টিমের নিকটও বক্তব্য প্রদান করেছেন।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এনামুল বাছির নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ডিআইজি মিজানকে অবৈধ সুযোগ প্রদানের হীন উদ্দেশ্যে তার কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় অর্জিত ৪০ লাখ টাকা উেকাচ হিসেবে গ্রহণ করে তা গোপন করেছেন। আর ডিআইজি মিজান (সাময়িক বরখাস্ত) সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশায় খন্দকার এনামুল বাছিরকে প্রভাবিত করার জন্য ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।