বউভাত নয়, দাফন হলো বর-কনেসহ ১১ জনের

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৩

বউভাত অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল আজ। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানের দিন এক সঙ্গে দাফন করা হলো বরকনেসহ ১১ জনকে। চর ঘাটিনা গ্রামে যে বিয়ের মঞ্চে সোমবার বিকেলে বরকনে এক সঙ্গে বসে একে অপরের সারাজীবনের সঙ্গী হয়েছিলেন, ঠিক সেখানেই ১৩ ঘণ্টা পর কনে সুমাইয়া ফেরেন লাশ হয়ে। বিয়ের মাধ্যমে মেয়ে সুমাইয়াকে চিরবিদায় দিতে হবে তা জানা ছিল না পরিবারের। হাতে লাগানো মেহেদীর রং না শুকানোর আগেই নিভে গেল সুমাইয়া-রাজন দম্পতির জীবন প্রদীপ। সোমবার সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ রেল স্টেশনের উত্তর-পূর্ব পাশে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও বরযাত্রী বহনকারী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে বরকনে  ও পিতা-পুত্রসহ নিহত ১১ জনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। চিরাচরিত বিয়ের আনন্দ হঠাত্ই নিষ্ঠুর বিষাদে পরিণত হবে এমনটা জানা ছিল না কারো। এদিকে একমাত্র ছেলের বউকে ঘরে তুলে সংসার আলোকিত করার ইচ্ছে পূরণ হলো না বাবা আলতাফ হোসেনের। দুঃখ নামক সাগরের ভয়ংকর ঢেউ এসে সব ভাসিয়ে নেবে তাও জানা ছিল না রাজনের মায়ের। তাই সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ।

জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বেলা ১১টায় চর ঘাটিনা কবরস্থানে জানাজা শেষে সুমাইয়া ও তার স্বজনদের মরদেহ দাফন করা হয়। 

সরেজমিন দেখা যায়,    মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে নিহত বর রাজনকে একনজর দেখার জন্য এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমিয়েছে। রাজনের বাবা আলতাফ হোসেন সন্তানের লাশের সামনে নির্বাক। মা চিত্কার দিয়ে বারবার কফিনে ঝাঁপ দিয়ে ছেলের মুখে হাত বুলানোর চেষ্টা করছেন। এই ঘটনায় বর রাজনের ফুফা ও ফুফাতো ভাই, বড়ো বোনজামাই, বন্ধুবান্ধবসহ আত্মীয়স্বজন মারা গেছেন। নিহতদের বাড়ি আশপাশে হওয়ায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ ঘটনায় মারা গেছে বর রাজনের ফুফা সামাদ ও ফুফাতো ভাই সাকিল। সিরাজগঞ্জ সদরের রামগাঁতি গ্রামে নিহত পিতা-পুত্রের বাড়িতে আশপাশের হাজারো মানুষ এসে ভিড় জমায় গতকাল বাদ ফজর থেকেই। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন সাকিলের মা। সাকিলের মায়ের চোখের পানি দেখে উপস্থিত লোকজনও কেঁদেছেন অঝর নয়নে।

এদিকে এ ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চলীয় পাকশী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার করে টাকা এবং আহতদের প্রতিজনকে ১০ হাজার করে টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।