কুমিল্লায় কাঠের সাঁকো দিয়ে ৯ গ্রামের শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক নারী-পুরুষের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:১৯

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় স্বরসতির চরের উপর নির্মিত কাঠের সাঁকোতে ভোগান্তিতে ৯ গ্রামের মানুষ। গত ২০ বছর ধরে নির্মিত কাঠের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হয় গ্রামের শিক্ষার্থী ও বয়ষ্ক নারী-পুরুষ সকলেই। প্রায় ২০ হাজার মানুষের এই গ্রামে সাঁকো পারাপারে মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের প্রথম ও দ্বিতীয় স্বরসতির চরের মাঝের খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার। খালের উপর প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত একটি কাঠের সাঁকো দিয়ে তিতাসের প্রথম স্বরসতিরচরসহ কাঠালিয়া নদীর অপরপ্রান্তে থাকা মেঘনা উপজেলার ৮টি গ্রামের লোকজন নদী পার হয়ে সাঁকো ব্যবহার করে জেলা শহর কুমিল্লা ও উপজেলা সদরসহ বৃহত্তর বাজার বাতাকান্দিতে যাতায়াত করে।

দীর্ঘদিন ধরে পারাপারের এই সাঁকো চলাচলের বড় মাধ্যম হলেও তেমন একটা মেরামত বা বিকল্প ভাবে না সংশ্লিষ্টরা। তবে এই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগে কাজ করেন উক্ত সাতানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এইচএম সালাহউদ্দিন। সাঁকোটি নাজেহাল অবস্থায় পরে আছে অনেক বছর ধরে। কেউ পা দিলেই নড়ে উঠে সাঁকোর খুঁটি। সাঁকো তৈরির ২০ বছরে ৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পেলেও আঞ্চলিকতার তকমা দিয়ে কোন কাজ করে নাই।  

স্বরসতীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার বলেন, স্কুল যাওয়ার সময় সাঁকো পারে ভীতি কাজ করে। গ্রামের আরেক কারিগরি বিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিন বলেন, সাঁকোতে উঠলেই নড়ে তখন ভীতি কাজ করে, ভয়ে মাঝে মাঝে স্কুল যাওয়ার অনীহা আসে। 

দ্বিতীয় স্বরসতীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কাঠের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে। গ্রামবাসীর উদ্যোগে এটা সংস্কার হয় তারপরেও নড়ে, শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে ভয় পায়। ভীতিতে কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে দিয়ে যায়। তার জোর আবদার দ্রুত উক্ত স্থানে পাকা সেতু নির্মাণের। 

গ্রামের বাসিন্দা মো.মজিবুর রহমান বলেন, স্বরসতীর গ্রাম প্রতিষ্ঠা হয়েছে প্রায় ২০০ বছরেও বেশি সময় আগে। গ্রামের বয়স বেশি হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। দেশের সরকার বদলেও ভাগ্য বদল হয়নি গ্রামের। পাকা সেতু নাই কাঠের সাঁকো ভোগান্তির কারণ মনে করেন তিনি।

মেঘনা উপজেলার ব্রাহ্মনচরের মো. আবু হানিফি মিয়া জানান, কাঠের সাঁকো ঝুঁকিপূর্ণ সময় ও খরচ বাচাতে বাধ্য হয়ে যাতায়াত করা হয়। তবে কোন ভারী বস্তু আনতে অন্য রাস্তায় ঘুরে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে তারা মোহনপুর ঘাটের হয়ে এপাড়ে আসেন।

সাতানী ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক সরকার জানান, ২০১৮ সালে নির্বাচিত হয়ে সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার ভাষায় নানা তাল বাহানা দেখিয়া তার অনুমোদন দেয়নাই। তিনি আরও বলেন বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সংসদ সদস্য নাকি এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণ করবে। তাই তার আর চেষ্টা ছিল না।    

উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় স্বরসতীর চরের মাঝখানের খালের উপর যেখানে কাঠের  সাঁকো রয়েছে সেখানেই ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি পাকা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন হবে এবং সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এএম/এমআর