‘শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার না করলে ফের স্বৈরাচারের উদ্ভব হবে’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৮:৫৩

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুসারে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। রক্ত দিতে হয়েছে। স্বৈরাচারের উদ্ভব ঠেকাতে ভবিষ্যতের জন্য আবার আমাদের রক্ত দিতে হবে কিনা তা পরিষ্কার না। ফের স্বৈরাচারের উদ্ভব হবে যদি শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার না করেন। 

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে অনুষ্ঠিত গণ-অভ্যুত্থান ও গণআকাঙ্ক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল জেলা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। 

এ সময় সলিমুল্লাহ খান বলেন, মেধার প্রশ্ন না তুলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ছেলে-মেয়েকে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বুনিয়াদি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্কুল-কলেজ, ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে আমরা এমন এক নতুন প্রজন্ম পাবো, তারা দেশের জন্য উন্নত জনশক্তি-মেধাশক্তির একটা শর্ত পূরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের ইতিহাস দেখবেন, বিপ্লব নিজেই নিজের ছেলেদের খেয়ে ফেলে। যারা আন্দোলনের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন এখন তারা নিজেদের মধ্যেই মারামারি করে। আমরা নানাদিক থেকে দাবি উত্থাপন করেছি, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সভা-সমিতি করার অধিকার ছাড়া কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বাস্তবক্ষেত্রে শিক্ষাক্ষেত্রে কোন সংস্কার করার বিষয়ে হাতই দেয়নি। একই অবস্থা আমাদের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিষয়েও প্রযোজ্য।

এই আন্দোলন আমাদের নতুন কথা উত্থাপন করার অবকাশ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈরাজ্য তৈরি করলে হবে না, আমাদের গভীর ধৈর্য্যের সঙ্গে এ অগ্নিপরীক্ষা পার হতে হবে। কোন মায়া বা মোহ ৭২ এর সংবিধানের জন্য রাখা যাবে না। ১৯৭১ কি ২০২৪ এর বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে? মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কি বিলুপ্ত হবে? তাদের আমি সবিনয় জিজ্ঞেস করি ১৯৭১ এর ব্যবসা যারা করেছিলেন, তারা কি ১৯৪৭ কে কখনো ক্রিয়া সাধন করেছেন? ইতিহাসের ৫৩ বছরে ১৯৪৭ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। তারা নিজেরা যেহেতু ৪৭ এর অবলুপ্ত করে দিয়েছে, এর দায়-দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। এজন্য তারা মনে করছে ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ৭১-এর সব স্মৃতিকে মুছে দেবে। এ ধরণের কাজ করার লোকের অভাব নেই, সেইজন্য আমরা ২০২৪ কে ভুলে যেতে পারিনা। 

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভর সভাপতিত্বে আরও বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জহিরুল ইসলাম কচি, ববির বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান উন্মেষ রায়, সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইদুল হক নিশান, বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট একে আজাদ, অ্যাডভোকেট তপংকর চক্রবর্তী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দুলাল মজুমদার প্রমুখ।  সভা সঞ্চালনা করেছেন জেলা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক হুজাইফা রহমান।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি