গেল বছর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের ক্রিকেট বোর্ডে টানা ১১ বছর ধরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাজমুল হাসান পাপন পদত্যাগ করেন। তারপর এই দায়িত্বে আসেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। নানা সংকটের মধ্য দিয়েই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই তার বোর্ড আয়োজন করেছে বিপিএল। যেখানে মাঠের খেলার থেকে বাহিরের সমালোচনাই বেশি আলোচিত ছিল।
কয়েকটি ফ্রাঞ্চাইজির খেলোয়াড়দের টাকা বকেয়া রাখা, তারপর খেলোয়াড়দের অনুশীলন বয়কট, একটি দলের বিদেশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ বয়কটের মতো ঘটনাও বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবারের আসরে। তবে বাহিরে যাই হোক, মাঠের খেলা পরিচালনায় সফল ছিল ফারুক আহমেদের বোর্ড। সব কিছুই হয়েছে উইকেট বদলে যাওয়াতে।
বিপিএলের প্রায় সব আসরেই নানা ধরনের বিতর্ক-সমালোচনায় জর্জরিত থাকে। আর প্রতি আসরের বিতর্কের মধ্যে একটি জিনিস মিল থাকে সেটা হলো উইকেট নিয়ে সমালোচনা। কেননা ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের মানের উইকেট হচ্ছিল না বিপিএলে। তাতে চার-ছক্কার মারও খুব বেশি দেখা যাচ্ছিল না, হতাশ হচ্ছিল দর্শকরা। তবে সদ্য শেষ হওয়া আসরে ঘটেছে ব্যতিক্রম ঘটনা। উইকেট দেখা গিয়েছে দুর্দান্ত, মিরপুরের স্পিন বান্ধব উইকেটেও দেখা গিয়েছে ব্যাটারদের তাণ্ডব। তাতে বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান হয়েছে এবার। হয়েছে এক আসরে ৮ সেঞ্চুরির রেকর্ডও, পাশাপাশি এবারই প্রথম বিপিএলের এক আসর দেখেছে ৭০০-এর বেশি ছয়। সব মিলিয়ে বাহিরের বিতর্ককে খানিকক্ষণের জন্য এক পাশে রাখলে মাঠের খেলার হিসেবে টুর্নামেন্ট ছিল দুর্দান্ত। আর সবই হয়েছে ফারুক আহমেদের এক বার্তায়।
গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বিপিএলের উইকেটকে স্পোর্টিং করার জন্য কিউরেটকে দেওয়া বার্তার কথা জানান বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, 'আমি কিউরেটরকে একটা নির্দেশনাই দিয়েছিলাম। আমি সেন্ট কিটসে (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) গিয়েছিলাম খেলা দেখতে। সেখানে তিনটা ওয়ানডে ম্যাচ দেখেছিলাম। ৩২২ এবং ২৯৫ করেও আমরা হেরেছিলাম দুইটা ম্যাচ। মানে কোনো লড়াই হয়নি। তখন দুইটা জিনিস আমার মাথায় এসেছে যে, ভালো উইকেটে বেশি রান করার একটা অভ্যাস করতে হবে। পাশাপাশি এই উইকেটে বোলাররা কীভাবে নিজেদের সামর্থ্য দেখাবে ঐটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবুজ উইকেটে খেলব, টেস্ট ম্যাচ খেলব। তো এবারের (বিপিএল) সাধারণ উইকেটই ছিল। কিন্তু কোনো অস্বাভাবিক বাউন্স ছিল না। এরকম উইকেটে নিয়মিত খেললে আমরা এই ফরম্যাটে ১৮০-২০০ রান করতে পারব। যাই হোক, চেষ্টা করছি উন্নতি করতে।'
এ সময় সভাপতি হিসেবে ক্রিকেট বোর্ডে নিজের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমার লক্ষ্য ও নিয়ত একটাই সেটা হলো দেশ ও দেশের ক্রিকেট-এর মাঝে আর আমি কিছু চোখে দেখি না। যারা আমাকে আগে থেকে চিনে তারা জানে আমি যেসব কাজ করি খুব ভেবে চিন্তেই করি। এজন্য যদি কোনো কিছু ভালো নাও হয়, আমি যেমনটা চিন্তা করেছিলাম তেমনটি হয়নি সেসময় চাইলে যে কেউ আমার কাছে জানতে চাইতে পারে। আর আমার কাছে উত্তরও থাকবে। বিভিন্ন কাজেই তর্ক থাকতে পারে, কিন্তু আমি কোনো কিছু না জেনে করি না, এটা আমার কাজের ধরন। তো আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি (উন্নতির)। এর মধ্যে ভালো খারাপ জিনিস থাকবে তবে আমার সর্বোচ্চটা থাকবে।'
