বাকৃবি প্রতিনিধি

বাকৃবিতে বহিরাগতদের মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ 

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩:১৪

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ২৮ আগস্ট থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। তবে সম্প্রতি বহিরাগত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দফায় দফায় মিছিল ও শোডাউনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আছে শিক্ষার্থীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদলের নেতা মো. রিপন মিয়া ও সোলেমান হোসেন রুবেলের নেতৃত্বে কেওয়াটখালী থেকে একটি মিছিল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। মিছিলটি প্রথমে ফাস্ট গেট থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে শোডাউন করে এবং পরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের সামনে দিয়ে আবার ফাস্ট গেটের দিকে যায়। একই দিন ছাত্রদলের আরেকটি গ্রুপ আব্দুল জব্বার মোড় থেকে মিছিল বের করে কেআর মার্কেট হয়ে ফাস্ট গেটের দিকে অগ্রসর হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আব্দুল জব্বার মোড়ে জমায়েত হয় এবং পরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে কেআর মার্কেটে গিয়ে মিছিল শেষ করে। ওই মিছিলে চার থেকে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মিছিলে “খালেদা জিয়া, খালেদা জিয়া, একটা দুইটা লীগ ধরে খুনি হাসিনার বিচার চাই” ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এদিকে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টে থেকে জানা যায়, গণহত্যা ও গণতন্ত্র ধ্বংসের দায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও গ্রেফতারের দাবিতে এই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিএনপিকে চিন্তাভাবনায় আরও স্মার্ট হতে হবে। বর্তমান প্রজন্মকে আওয়ামী লীগ ধরে রাখতে পারেনি কারণ তাদের পালস বোঝেনি। বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এখানে কোন খুনের আসামীকে ধরতেও পুলিশ ঢুকতে পারবেনা প্রক্টর স্যারের অনুমতি ছাড়া। এমনকি প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া হলের মধ্যে পুলিশ এক পা দিতে পারবেনা। বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলির প্রতি তার আহবান, মাতৃসমা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যান্ডার্ড তারা বজায় রাখবেন।’

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ব থানা আহ্বায়ক মো. রিপন মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতিত ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি যথার্থ সম্মান রেখে। এবং তার ধারনা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক হিসেবে এ কর্মসূচি গ্রহণ করবে। কারণ তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এই বর্তমান বাংলাদেশ।      

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এর আগেও মিছিল হয়েছে, এ নিয়েও সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তবে গতকালের মিছিল সম্পর্কে আমাদের আগাম ধারণা ছিল না, এ মিছিলের ব্যাপারে জানতে জানতেই মিছিল শেষ হয়ে যায়। বহিরাগতদের এ ধরনের কার্যক্রম ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তবে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএস/এএইচপি