বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন জাতীয় দল গঠন করতে ৫৭ খেলোয়াড়কে কুপার টেস্টের জন্য আমন্ত্রণ জানালেও রাসেল মাহমুদ জিমির নাম নেই। জিমি দেশের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। এখনো তার মতো ভালো এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় অতুলনীয়, তার পরও ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি জিমির মতো খেলোয়াড়কে রাখেনি। তারা চিন্তা করেছে ৩২ বছর বয়সী খেলোয়াড় জাতীয় দলে নেবে না।
সারা দুনিয়ায় খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে খেলেন পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। পাড়া-মহল্লায় খেলা হলেও খেলতে পারলে দলে রাখা হয়, বয়স দেখা হয় না। আর হকি ফেডারেশন বয়সের সংখ্যা দিয়ে অদ্ভুত নিয়ম চালু করেছে। কেন এ ধরনের নিয়ম চালু করা হয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখতে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এএনএসসি)।
গত সোমবার এনএসসির সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি হকি ফেডারেশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়ে যথাযথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এনএসসির চিঠির বিষয়ে ফেডারেশনের অ্যাডহক কিমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, 'একটা চিঠি এসেছে। আমি জানি না কীসের চিঠি। বয়স নিয়ে বলা হয়েছে।' জিমি ইস্যুতে চিঠি দেওয়া হয়েছে কি না?-এমন প্রশ্নে রিয়াজুল হাসান বলেন, 'ওটাই হবে। এছাড় আর কী হবে। জিমির বিষয়েই হবে।'
হকি ফেডারেশনের কাণ্ড দেখে হতবাক এনএসসি। ৫৭ জন খেলোয়াড়কে কুপার টেস্টের জন্য ডাকা হয়, অথচ সেই তালিকায় দেশের এক নম্বর তারকাকে ডাকা হয় না। ক্রীড়াঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে কারা ৫৭ জনের তালিকা তৈরি করেছে। কোচ নিয়োগের আগেই ৫৭ জনের নাম প্রকাশ করে হকি ফেডারেশন। অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়ে এই তালিকা তৈরি করলেও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান নিজেও জানতেন না জিমি নেই কেন। তিনি বলেছিলেন তরুণ দল তৈরি করছেন। তরুণ দলের কথা বলেও তরুণ খেলোয়াড় রাকিন ভালো খেললেও তাকে ডাকেনি ফেডারেশন। কুপার টেস্টের জন্য যাদেরকে ডাকা হয়েছে, সেই তালিকায় সিনিয়র খেলোয়াড়ও রয়েছেন।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে জিমিকে কুপার টেস্ট করতে দেওয়া হচ্ছে না। কুপার টেস্ট জাতীয় দলের অনুশীলন নয়। একজন খেলোয়াড় অনুশীলনের জন্য কতটা প্রস্তুত, শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করার অন্যতম মাধ্যম। হকি ফেডারেশন কোনো রকম সুযোগই দিতে রাজি না জিমিকে।
৫৭ জনের তালিকা তৈরি করল কে? ফেডারেশনের কেউ বলতে পারছে না। ফেডারেশনের একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দেন। কোচ নিয়োগ করা হয়েছে মামুন উর রশিদকে। নিয়োগের আগেই গুঞ্জন ছিল মামুন উর রশিদ-ই কোচ হতে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত গুঞ্জনটাই সত্য হয়েছিল। জিমি ইস্যুতে মামুন উর রশিদের কাছে প্রশ্ন ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি না। জিমিকে কেন নেওয়া হয়নি, সেটি নাকি তার জানা ছিল না।
মামুন বলেন, 'আমি জানি না, জিমিকে কেন বাদ দিয়েছে।' একজন কোচ হিসেবে মামুনের চোখে জিমির পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে বললে, 'অবশ্যই জিমি বাংলাদেশের ভালো খেলোয়াড়।' তাহলে জিমিকে কেন বাদ দেওয়া হলো? হকিতে ৫৭ জনের তালিকা করা হলে সেখানে কি জিমির নাম আসে না? মামুন উর রশিদের জবাব, 'ফেডারেশনের ওনারা কী চিন্তা করেছেন, সেটা আমি জানি না।'
