বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে :জাতিসংঘ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২১:০১

এএফপি

গত বছর বিশ্বজুড়ে ক্ষুধায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৮২ কোটি ১০ লাখ। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে টানা তিন বছর ক্ষুধায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টির হাল চালচিত্র’ শিরোনামের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মতো জাতিসংঘের অন্যান্য সহযোগী সংগঠন।

কয়েক দশকে অপুষ্টিতে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের জেরে ২০১৫ সাল থেকে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। এ ধারাটা পালটানো হচ্ছে জাতিসংঘের ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার লক্ষ্যটি ‘একটি বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৮১ কোটি ১০ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত খেতে পারত না, সে সংখ্যাটি এখন ৮২ কোটি ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফও) প্রধান ডেভিড বিসলি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে আমরা ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব অর্জন করছি না। এটা খুবই খারাপ প্রবণতা। খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া আমরা কখনো শান্তি ও স্থিতিশীলতা পাব না।’ তিনি এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোরও সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদ মাধ্যমগুলো ক্ষুধায় মারা যাওয়া শিশুদের চেয়ে ব্রেক্সিট ও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে বেশি ব্যস্ত। বিসলি বলেন, ক্ষুধা ও খাদ্য সরবরাহের ওপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সম্প্রদায়গত বিভাজন সৃষ্টি করে এবং নিজেদের নতুন সদস্য সংগ্রহ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক নীতি গ্রহণ জরুরি। বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আওতায় আনতে একটি ‘কাঠামোগত রূপান্তর’ জরুরি। প্রতিবেদনে আফ্রিকা মহাদেশে ব্যাপক বিস্তৃত অপুষ্টির বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে আক্রান্ত। এশিয়ায় প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে আক্রান্ত। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে এ হার ৭ শতাংশের কাছাকাছি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে ২০০ কোটির বেশি মানুষ, যার আট শতাংশ উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে। তারা পর্যাপ্ত পুষ্টি ও নিরাপদ খাবার পায় না ।

অক্সফাম জিবির খাদ্য ও জলবায়ু নীতির প্রধান রবিন উইলাহবি বলেন, ক্রমবর্ধমান ক্ষুধায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারীরা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য ও সংঘাতের ফলে অনেক দিনের চেষ্টায় অর্জিত অগ্রগতি বিঘ্নিত হচ্ছে।