দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধারে গতি আসবে
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
বাংলাদেশ রেলওয়েতে যুক্ত হচ্ছে জার্মানির তৈরি আধুনিক কিরো ক্রেন। এর ফলে দুর্ঘটনা পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান দ্রুত ও সহজ হবে। ক্রেনগুলো বর্তমানে দিনাজপুরের পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানাতে সংযোজন ও প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ক্রেনগুলো রেলওয়ে পরিবহন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
সূত্রমতে, জার্মানির বিশ্ববিখ্যাত রেলওয়ে ক্রেন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কিরো ওই চারটি ক্রেনগুলো সরবরাহ করে। এসব আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। ক্রেনগুলোর মধ্যে দুটি ব্রডগেজ ও দুটি মিটারগেজ লাইনের।
ব্রডগেজ ক্রেনগুলো ইতোমধ্যে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় সংযোজন করা হয়েছে। ঐ ক্রেনের উত্তোলন ক্ষমতা বা লিফটিং ক্যাপাসিটি হচ্ছে ১২০ মেট্রিক টন। সে অনুযায়ী রেলওয়ের লাইনচ্যুত ইঞ্জিনসহ রেলগাড়ি সহজে উদ্ধার করতে পারবে। অনুরূপভাবে মিটার গেজ ক্রেনের ক্ষমতা ৮০ মেট্রিক টন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৭ মে এসব ক্রেন সমুদ্রপথে জার্মানি থেকে চট্টগ্রামে আনা হয় এবং ১৯ মে তা খালাস করে পার্বতীপুর ও পাহাড়তলীতে পাঠানো হয়। বর্তমানে ক্রেনগুলো ঐ এলাকার কারখানাগুলোতে সংযোজন, প্রক্রিয়াকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ (ডি-প্রসেসিং কমিশনিং) হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (প্রজেক্ট) হাসান মনসুর জানান, আমদানিকৃত ক্রেনগুলো বিশ্বমানের। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন উদ্ধারে এগুলো অত্যন্ত আধুনিক ও কার্যকরী। ইতিপূর্বেও কিরো জার্মানি থেকে একটি ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের ক্রেন আনা হয়েছিল। এগুলো রয়েছে ঈশ্বরদী ও আখাউড়া জংশনে। তিনি আরো বলেন, আধুনিক এসব ক্রেন রেলওয়েতে যুক্ত হলে উদ্ধার কাজে গতি বাড়বে এবং দ্রুত কাজ করা যাবে।
পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী (সিএক্স) মুহম্মদ কুদরত-ই খুদা জানান, ক্রেনগুলোর সংযোজন কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে রেলবহরে যুক্ত হবে।
