চৌমুহনীতে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম নেই

শ্রম দপ্তরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পুলিশ ফাঁড়ি!

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২১:২৮

চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা

চৌমুহনীতে পুলিশ ফাঁড়ি অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব ভবন। শ্রম দপ্তরের একটি জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা। যে কোনো সময় ভবনটি ভেঙে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

নোয়াখালী পুলিশ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার বাণিজ্যিক এলাকা চৌমুহনীর রেল গেট সংলগ্ন স্থানে একটি ভাড়া টিনের ঘরে ষাটের দশকের প্রথম দিকে পুলিশ ফাঁড়ি চালু করা হয়। পরবর্তীতে ঐ স্থান থেকে ফাঁড়িটি শহরের করিমপুর রোডের দক্ষিণে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। গত দুই দশক ধরে ঐ ভবনে ফাঁড়িটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ফাঁড়ি থানায় বর্তমানে একজন ইন্সপেক্টর, দুই জন সাব-ইন্সপেক্টর, দুই জন অ্যাসিসট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর ও ১৫ জন কনস্টেবল রয়েছে। শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনটি পুরতন ও জরাজীর্ণ। ছাদসহ বিভিন্ন পিলার ও দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফাঁড়িতে কর্মরতরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাছাড়া, চৌমুহনী শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এক জন ইন্সপেক্টর, দুই জন সার্জেন্ট, দুই জন হাবিলদার ও ১৫ জন কনস্টেবল রয়েছে। তাদের জন্যও কোনো ব্যারাক নেই। চৌমুহনী শহরের চৌরাস্তার উত্তরে বাসস্ট্যান্ডে একটি কক্ষে ইন্সপেক্টরের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করে আসছে। পুলিশ অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, পুলিশ ফাঁড়ি ও ট্রাফিক ব্যারাক নির্মাণের জন্য গত কয়েক বছর যাবত্ নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আড়াই একর ভূমি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বারবার চিঠি চালাচালি হলেও কোনো ফল হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে ফাঁড়ির কাজ করতে হচ্ছে।

এদিকে, চৌমুহনী শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের জন্য কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োজিত থাকলেও তারা স্থানাভাবে কাজ করতে পারছে না বলে সূত্র জানায়। এক জন পিয়ন শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের একটি ছোটো আবাসিক ভবনে পরিবার নিয়ে রয়েছে। ফলে চৌমুহনীতে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়া জানান, ফাঁড়ির কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য কোথাও বাড়ি ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শ্রম দপ্তর তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ভবনটি ছাড়া যাচ্ছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। অফিসার ও কনস্টেবলগণ এ জরাজীর্ণ ভবনেই থাকছেন।

শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে থাকা পিয়ন আইয়ুব আলী জানান, চৌমুহনীতে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও তা শ্রমিকদের কোনো কাজে আসছে না। ফাঁড়ি না সরানোর ফলে শ্রম অফিসের নতুন ভবন নির্মাণসহ শ্রমিকদের জন্য অন্যান্য সুবিধা চালু করা যাচ্ছে না।