দুধ পরীক্ষায় চাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৯, ২১:৩০

পরিবেশবাদীদের দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পরীক্ষার জন্য দুধের নমুনা সংগ্রহে দুর্নীতিমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দিষ্ট করে দেওয়া ল্যাবরেটরিতে সরবরাহ করবার জন্য নমুনা সংগ্রহ যেন সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী হয়। আমরা আশঙ্কা করছি, নমুনা সরবরাহ করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হতে পারে। তাদের দাবি, খোলা বাজার থেকে পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তা থেকে কিছু অংশ আদালতের নির্দিষ্ট পরীক্ষাগারে এবং আরেক অংশ দেশের বাইরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর স্বীকৃত রেফারেন্স ল্যাবে পাঠাতে হবে। এতে করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কা ও আতঙ্ক দূর হবে। গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘ঢাবি অধ্যাপকের পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণা : জনস্বার্থে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, জনউদ্যোগ, বিসিএইচআরডি, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চ, গ্রীনফোর্স, সুবন্ধনসহ কয়েকটি পরিবেশবাদী সংগঠন যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মূল প্রবন্ধে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, একটি অসাধু চক্র আমদানিকৃত নিম্নমানের গুঁড়াদুধ দিয়ে তৈরি করছে তরল দুধ। এমনকি ডিটারজেন্টসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে দুধ তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানিতে কম দামে সরবরাহ করছে—এমন প্রতিবেদন প্রায়ই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। তাদের কারণে প্রকৃত খামারিরা বাজারের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না, ফলে আর্থিকভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিকাশমান শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে বিদেশি দুধ নয়, দেশি দুধই নিরাপদ করতে হবে।

উল্লেখ্য, সরকারি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বাজারে থাকা দুধের নমুনা পরীক্ষা করে। সংস্থাটি তাদের রিপোর্ট গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে। তারা প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার শতকরা ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশ অনুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত করে। শতকরা ৩০ ভাগ নমুনায় গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে টেট্রাসাইক্লিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক পায়। একটি নমুনায় সিসা এবং কয়েকটিতে সিপ্রোফ্লোক্সাসিন ও এনরোফ্লোক্সাসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্ত করে। পবা-এর চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন—ডক্টরস ফর হেলথ্ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মো. আবু সাঈদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, জনউদ্যোগের সমন্বয়কারী তারিক হোসেন, বিসিএইচআরডির প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল হক,  কেন্দ্রীয় খেলাঘরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুনু আলী, নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন।