যুবলীগ কর্মীকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:০৭

চট্টগ্রামের রাউজানে মো. হাসান (৩২) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল ১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাত সাড়ে ১১টার নাগাদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. আলাউদ্দিন তালুকদার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহমেদ হোসেন মেম্বারের বাড়িতে অবস্থানকালে বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্তরা মো. হাসানকে ঘর থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে পাশের গ্রাম পলোয়ান পাড়ায় ফেলে রেখে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় তার স্ত্রী ঝিনু আক্তার তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের শাশুড়ি জানান, সন্ত্রাসীরা বিকালে ঘরে ঢুকে খাটের নিচ থেকে হাসানকে বের করে মারতে মারতে নিয়ে যায়। সে সময় বাড়িতে শুধু মহিলারা থাকায় তারা কাউকে চিনতে পারেননি।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, "এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।"

স্থানীয়রা জানান, নিহত হাসান রাউজান উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেকান্দরের পেটোয়া বাহিনীর প্রধান ছিলেন।আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসার পর দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন।

এদিকে, গত ২৪ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের আসাদ আলী মাতব্বর পাড়ায় জুমার নামাজ আদায় ও বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতে আসার পথে এক শুটকি ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন। এক মাসের ব্যবধানে নোয়াপাড়া ইউনিয়নে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

ইত্তেফাক/এএস/এএইচপি