বর্ষাকালের ফুল কদম। যা নীপ নামেও পরিচিত। এছাড়া বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবলভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, প্রাবৃষ্য, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্পও কদমের নাম।
রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কাণ্ড সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা অজস্র এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে এবং বিন্যাসে বিপ্রতীপ। উপপত্রিকা অত্যন্ত স্বল্পস্থায়ী বলে পরিণত পাতা অনুপপত্রিক। বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। সাধারণত পরিণত পাতা অপেক্ষা কচি পাতা অনেকটা বড়। কদমের কচি পাতার রং হালকা সবুজ । কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়। তাতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। পূর্ণ প্রস্ফুটিত মঞ্জরির রং সাদা-হলুদে মেশানো হলেও হলুদ-সাদার আধিক্যে প্রচ্ছন্ন। প্রতিটি ফুল খুবই ছোট, বৃতি সাদা, দল হলুদ, পরাগচক্র সাদা এবং বহির্মুখীন, গর্ভদণ্ড দীর্ঘ। ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালির প্রিয় খাদ্য।
বাংলাদেশে কদম ফুল বিরহের প্রতীক। কবে কোন রাধিকা বাঁশির কলধ্বনিতে কদমগাছের তলে ছুটে গিয়েছিলেন তা আজ আর কারুর জানা নেই। আজ আর সেই কৃষ্ণ নেই। বাঁশি নেই কিন্তু চির বিরহের হাহাকার আছে। আছে রাধাকৃষ্ণের নতুন সংস্করণ। আজো বর্ষায় কদমফুল বেয়ে অশ্রু ঝরে। কবির মনেও দোলা লাগে।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে পাওয়া যায়। কদমগাছ সাধারণত ৩০/৪০ ফুট লম্বা হয়। প্রস্থ ঊর্ধ্বে পাঁচ থেকে সাত ফুট হয়। ফুল গোলাকৃতি লম্বা। ফুলের রং হলুদ সাদায় মেশানো। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই এই ফুল ফোটে। আমাদের সাহিত্যে কদম গাছ ও ফুল ২০০০ বছরের পুরনো। বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ প্রথম এই কদমগাছে উঠে বাঁশি বাজান এবং তার দয়িতা শ্রীরাধিকাকে আকৃষ্ট করেন। এই ফুলের সৌন্দর্য আছে কিন্তু গন্ধ নেই। এর পাতা মাথলা তৈরির কাজে ব্যবহূত হয়। কদম ফুল ছেলেমেয়েদের হাতে খেলনা হয়ে ওঠে। কদমগাছ তক্তা তৈরির কাজে ব্যবহূত হয়। কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করে থাকে।
